|
অন্ধকার ঢাকায় পতিতা মম, বইছে সমালোচনার ঝড়
সাকিব আল রোমান
|
![]() অন্ধকার ঢাকায় পতিতা মম, বইছে সমালোচনার ঝড় গল্পের শুরুটা হয় পরী চরিত্রে অভিনয় করা জাকিয়া বারী মমকে ঘিরে। মায়ের চিকিৎসার খরচ এবং জীবিকার জন্য পরী বেছে নেয় অন্ধকার জগত। টেলিছবিতে অনেকটা খোলামেলা পোশাক আর অশ্লীল কথা-বার্তায় হাজির হয়েছেন পরী, যা দর্শকমহলে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, টেলিছবিতে পুলিশ অফিসার টিটুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। গল্পের শুরুতে তাকে দেখানো হয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সন্ত্রাসী জনিকে ধরার মিশনে নামে সে। এতে জনি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা। যে কি-না পুরনো ঢাকার নামকরা সন্ত্রাসী। জনিকে ধরতে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। একটা সময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরীকে (মম)। কারণ পরী ও জনি একে অপরকে ভালোবাসে। গল্পে দেখা যায়, পরীর সঙ্গে অবৈধ্য সম্পর্কে লিপ্ত হয় পুলিশ অফিসার টিটু। একজন সোর্সকেও দেওয়া হয় মিথ্যে মামলা। এ বিষয়গুলো নিয়েও দর্শকমহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। ‘অন্ধকার ঢাকা’ টেলিছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, চঞ্চল চৌধুরী, শ্যামল মাওলা, রাশেদা চৌধুরী নেহাসহ অনেকে। এটি প্রচার হয় বাংলাভিশনে ঈদের তৃতীয় দিন (গত শুক্রবার) বেলা ২টা ১০ মিনিটে। ‘অন্ধকার ঢাকা’ দেখে বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে মফিজুল ইসলাম নামে একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলা নাটক পরিবারের সকলে একসাথে দেখে, অশ্লীলতার জন্য চলচ্চিত্র দর্শক জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ভালো নাটক বা ছবি হলে দেহ প্রদর্শনের দরকার হয় না। আশা করি পোশাকের বিষয়গুলো নাট্যকারগণ খেয়াল রাখবেন। চমৎকার একটি নাটক।’ আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, ‘একটু অশ্লীল বেশি হয়েছে।’ মোহাম্মদ হোসাইন লিখেছেন, ‘সিনেমার পর নাটকে ও অশ্লীলতা শুরু হয়েছে।’ রঙ তুলি জল লিখেছেন, ‘নাটকের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’ দোহা, কাতার থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলা নাটক এমন দেখতে চাই না আমরা।’ মি. পারফেক্ট লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ কি এমন? অবৈধ্য সম্পর্ক গড়ে আর মিথ্যা মামলা দেয়?’ ‘অন্ধকার ঢাকা’ টেলিছবি প্রসঙ্গে জাকিয়া বারী মমকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তবে নির্মাতা সুমন আনোয়ার কথা বলেন তার টেলিছবি প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো চ্যানেল বা আইটেম গানে কি এর চেয়ে বেশি খোলামেলা পোশাক দেখানো হয় না? এক সময় কথা উঠেছিল, আমরা শুধু কমেডি আর ভালোবাসার নাটক নির্মাণ করি। অন্য কোনো গল্পের নাটক নির্মাণ করতে জানি না। আমরা যদি একটু ভিন্ন কিছু প্রকাশ করতে যাই, আর তা নিয়ে যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে তো নির্মাতারা এ ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে ভয় পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গল্পটি কল্পনার এক অন্ধকার জগতের, অন্য এক ঢাকার। সব চরিত্রগুলো কাল্পনিক। মানুষের বিনোদনের জন্য এটি বানানো হয়েছে। এতে কাউকে ছোট করা বা কষ্ট দেওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়নি। আর নাটক কিন্তু জীবনের প্রতিচ্ছবি না। এর সঙ্গে বাস্তব জীবনের মিল খুঁজলে ভুল হবে। গল্পটি দাঁড় করানোর জন্য অনেক দৃশ্য তৈরি করতে হয়েছে। এটি সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
