ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ১ নভেম্বর ২০২৬ ● ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
ব্যাটারি রিকশা বিধিমালা, নাকি চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স?
নাজমুল হক শ্যামল
প্রকাশ: Sunday, 1 November, 2026, 8:50 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 1 November, 2026, 8:53 PM

ব্যাটারি রিকশা বিধিমালা, নাকি চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স?

ব্যাটারি রিকশা বিধিমালা, নাকি চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স?

রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও এই অননুমোদিত, যান্ত্রিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ বাহনটির কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই মরণফাঁদকে নিয়মের মধ্যে আনতে নীতি নির্ধারকদের যে চরম উদাসীনতা ও খামখেয়ালি লক্ষ করা যাচ্ছে, তা কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তার প্রতি এক চরম অবমাননা।

বহু নাটকীয়তা ও কালক্ষেপণের পর যখন একটি বিধিমালা বা নীতিমালার কথা সামনে আসে, তখন আশার আলো দেখার পরিবর্তে আমরা দেখতে পাই শুভঙ্করের ফাঁকি। ব্যাটারি রিকশার বিধিমালা নিয়ে প্রশাসনের কড়া সুর আর নরম আচরণের দ্বিমুখী নীতি স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির পকেট ভারী করাই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি সাধারণ প্যাডেল রিকশার কাঠামোতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটর এবং ব্যাটারি জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই যানগুলো। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ন্যূনতম নীতি না মেনে তৈরি এই রিকশাগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল। তীব্র গতিতে চলার সময় সামান্য ব্রেক করলেই এটি উল্টে যায়। এই কাঠামোগত ত্রুটি জানা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর লাখ লাখ ব্যাটারি রিকশা বুক ফুলিয়ে প্রধান সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়ায়, সেই জবাব দেওয়ার কেউ নেই। ত্রুটিপূর্ণ এই যানকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা বা দায়সারা বিধিমালা প্রণয়ন আসলে মৃত্যুকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার শামিল।

কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের নামে আসলে কী ঘটে? বাস্তবে দেখা যায়, যেকোনো নতুন নিয়ম আসার পর সড়কের শৃঙ্খলা ফিরুক বা না ফিরুক, স্থানীয় প্রভাবশালী, অসাধু চক্র আর অল্প কিছু দুর্নীতিপরায়ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পকেট ভারী হয়। নীতিমালার ফাঁকফোকর গলে টোকেন বাণিজ্য আর চাঁদাবাজির নতুন উৎসব শুরু হয়। যদি প্রশাসন সত্যিই আন্তরিক হতো, তবে লাইসেন্স দেওয়া বা ফি নির্ধারণের চেয়ে এর ঝুঁকিপূর্ণ কারিগরি ত্রুটি সংশোধন এবং নির্দিষ্ট রুটের বাইরে এর চলাচল নিষিদ্ধ করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিত। কিন্তু কঠোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাব প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট অনেক বেশি শক্তিশালী।

দেশের বিদ্যুৎ খাত যখন প্রায়শই সংকটের মধ্য দিয়ে যায়, তখন লাখ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরির মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ বৈধ গ্রাহকদের। বিধিমালায় চার্জিং স্টেশনের কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ে অবৈধ গ্যারেজগুলোর বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। আইনের এই নমনীয়তা আসলে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ারই নামান্তর।

আমি কোনো শ্রমজীবী মানুষের পেটে লাথি মারার পক্ষে নই। কিন্তু জীবিকার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কারও নেই। ব্যাটারি রিকশার চালকদের সিংহভাগেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, নেই ট্রাফিক নিয়মের ন্যূনতম জ্ঞান। অথচ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এক একটি অনিয়ন্ত্রিত গতিদানব।

প্রশাসনের এই ঢিলেঢালা, আপসকামী আর ঠুনকো বিধিমালা দিয়ে সড়ক নিরাপদ করা অসম্ভব। যদি সরকার সত্যিই সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে চায়, তবে লৌকিকতার বিধিমালা বাদ দিয়ে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। মহাসড়ক ও প্রধান সড়কগুলোতে এর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং কারিগরিভাবে নিরাপদ না করা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই এদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাবে না। আর কত সাধারণ পথচারী ও যাত্রীর রক্তে সড়ক রঞ্জিত হলে প্রশাসনের এই কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে, সেই প্রশ্ন আজ প্রতিটি নাগরিকের।

নাজমুল হক শ্যামল; সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময়

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status