|
অপসাংবাদিকতা ও সাইবার অপপ্রচারের শিকার সাংবাদিক আয়েশা আক্তার জেসিকা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অপসাংবাদিকতা ও সাইবার অপপ্রচারের শিকার সাংবাদিক আয়েশা আক্তার জেসিকা অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হানিট্রাপ বা অন্য কোনো অনৈতিক ঘটনার কথা বলে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা মূলত সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন সময়ে ঘটা তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একত্র করে অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ঘটনা (আর্থিক লেনদেন ও আইনি পদক্ষেপ) বিদেশে যাওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের একটি ঘটনায় পূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো সুরাহা না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। হঠাৎ তার সন্ধান পাওয়ায় তাকে টাকার বিষয়ে অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ছড়ানো ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বারবার বলতে শোনা যায়, টাকা পাবেন, টাকা নেবেন, আমাকে থানায় নিয়ে যান, যা অপব্যাখ্যা করে ভিন্ন রঙ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনা (অফিসে পানি ঢোকা ও বাকবিতণ্ডা) মদিনাবাগ আপন বাজার এলাকার মানিক মিয়ার বাড়ির নিচতলায় জেসিকার অফিসে একাধিকবার মোটরের পানি ঢুকে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার কার্পেট নষ্ট হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাড়ির দারোয়ানের স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি বা বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছিল, যাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় ঘটনা (অফিসের জিনিসপত্র চুরির বিষয়) একই অফিসে কাজ করা এক নারী কর্মী হঠাৎ অফিসের কিছু জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই নারীর স্বামী তাকে ধরে এনে চুরি হওয়া জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও অভ্যন্তরীণ এই ঘটনাকে হানিট্রাপের রূপ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আয়েশা আক্তার জেসিকা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে বা যারা আমার আনকাট ভিডিও বা এডিটেড অংশ হানিট্রাপ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করছে, তারা কোন আইনে এবং কেন এই অপপ্রচার করছে তা প্রমাণ করতে হবে। নিউজের সত্যতা যাচাই না করে এবং আমার কোনো বক্তব্য না নিয়ে কেবল ভিউ ব্যবসার জন্য একটি হলুদ সাংবাদিক চক্র আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। যারা ক্যাপশন একরকম আর ভিডিও আরেক রকম প্রচার করছেন, তারা কি আদৌ সাংবাদিক, নাকি হলুদ সাংবাদিক? তিনি আরও বলেন, কলম যখন সত্যের বদলে স্বার্থের পক্ষে কথা বলে, তখন তা আর সাংবাদিকতা থাকে না, হয়ে যায় অপরাধ। যারা আজ আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কিছুদিন আগেও তারা আমার অফিসে এসেছে, একসাথে খেয়েছে, আমার জন্মদিন পালন করেছে। তখন কি আমি খারাপ ছিলাম না? আজ ব্যক্তিগত স্বার্থে খারাপ হয়ে গেলাম? সাধারণ সাংবাদিক সমাজের ক্ষোভ ও আইনগত পদক্ষেপ, প্রথম সারির একটি জাতীয় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিককে নিয়ে হলুদ সাংবাদিকদের এমন অপপ্রচার ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদাকেন্দ্রিক অধিকার নিয়ে। সাধারণ সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জোরালো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে এবং হলুদ সাংবাদিকদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়েশা আক্তার জেসিকা আরো বলেন, আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দেশের আইন, পেশাদার সাংবাদিক সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, এই ঘটনার সঠিক সত্যতা জাতির সামনে তুলে ধরা হোক। আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আমাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সঠিক বিচার করা হোক, আমি মাথা পেতে নেব। আর যারা সাংবাদিকতার নামে হলুদ সাংবাদিকরা অপপ্রচার চালিয়ে আমার ওপর সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই। গণমাধ্যম যদি সতর্ক না থাকে, তবে তারা নিপীড়ককে ভালো মানুষ বানিয়ে দেবে আর নিপীড়িতকে বানাবে অপরাধী। মিথ্যা ও অপপ্রচার অত্যন্ত দ্রুত ছড়ালেও সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। এই ন্যাক্কারজনক অপপ্রচারের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ সাংবাদিক সমাজ।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
