|
ফুলবাড়ীতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে অ্যাডভোকেসি সভা
মোঃ বদরুজ্জামান বিপ্লব, ফুলবাড়ী
|
![]() ফুলবাড়ীতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে অ্যাডভোকেসি সভা উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) সভাটির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে একশনএইড বাংলাদেশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতারের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, উপজেলা সাইবার কমিটির সদস্য, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং পারিবারিক বিরোধ নিরসন নারী ও শিশু কল্যাণ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাহমিনা শিরিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাহানাজ পারভীন মুন্নি, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হারুন, ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিতু আহমেদ, ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ আলম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। ইউএসএসের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রবিউল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভা সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সমন্বয়কারী আব্দুল কুদ্দুস সরকার। সভায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সদস্য সীমা খাতুন। সভায় উপস্থাপিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে কোনো না কোনো সময় অনলাইনে হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হয়, সে বিষয়ে অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। জরিপে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে হয়রানি, অশালীন বার্তা পাঠানো, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর অপব্যবহার, ব্ল্যাকমেইল, হুমকি এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে ডিজিটাল সহিংসতার অন্যতম প্রধান ধরন হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে হয়রানির ঘটনা বেশি বলে জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাক্ষরতা, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা জোরদার, সাইবার অপরাধের দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীদের আইনি ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস এবং যুব নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের পক্ষ থেকে ১০ দফা নাগরিক দাবি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
