|
যমুনার পাড়ে গোলাম হোটেল, স্বাদে মুগ্ধ ভোজনরসিকরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() যমুনার পাড়ে গোলাম হোটেল, স্বাদে মুগ্ধ ভোজনরসিকরা এনায়েতপুর নৌঘাট এলাকায় অবস্থিত হোটেলটিতে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে; আবার অনেকে শুধুই এখানকার খাবারের স্বাদ নিতে দূর এলাকা থেকে ছুটে আসেন। ব্যস্ত সময়ে টেবিলগুলো পূর্ণ হয়ে যায়, একই সঙ্গে রান্নাঘরেও চলে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। হোটেলটির উদ্যোক্তা গোলাম সরকার। অন্যের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের একটি খাবারের ব্যবসা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যমুনার পাড়ে সীমিত পরিসরে হোটেলটি শুরু করেন। শুরুতে ক্রেতা কম থাকলেও খাবারের স্বাদ ও মানের কারণে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পরিচিতি। গোলাম হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ যমুনার টাটকা মাছ। চিংড়ি, পাবদা, আইড়, বোয়াল, বাঘাইর ও বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখানে রান্না করা হয়। পাশাপাশি গরুর মাংস, মুরগি, ডাল, ভর্তা, সবজিসহ নানা দেশীয় পদও থাকে খাবারের তালিকায়। এর মধ্যে দেশীয় মসলা ও বাটা মসলায় রান্না করা মাছের পদ ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। হোটেলটির ব্যস্ততার একটি ধারণা পাওয়া যায় প্রতিদিনের বিক্রির পরিমাণে। গোলাম সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০ কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়। পাশাপাশি মুরগি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছও বিক্রি হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। খাবারের দামও রাখা হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের নাগালের মধ্যে। এক বাটি মুরগি ১২০ টাকা, চিংড়ি ১৫০ টাকা, আইড় ২০০ টাকা, বাঘাইর ৩০০ টাকা, বাইম ও বোয়াল ২০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এছাড়া মাছের মুড়িঘণ্টের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। পাবনা থেকে খাবার খেতে আসা আশিক বলেন, “এখানকার খাবার খুবই সুস্বাদু। খাবারের স্বাদ নিতে বিশেষভাবে এখানে এসেছি।” হোটেলটির অবস্থানও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। একদিকে যমুনার বিশাল জলরাশি, অন্যদিকে দেশীয় খাবারের আয়োজন—দুটির সমন্বয়ে এখানে তৈরি হয়েছে আলাদা পরিবেশ। অনেকেই যমুনার পাড়ে ঘুরতে এসে গোলাম হোটেলে খাবার খেয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোটেলটির খাবার ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এনায়েতপুরের বাইরেও এর পরিচিতি বেড়েছে। গোলাম হোটেলকে ঘিরে বেশ কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। রান্না, খাবার পরিবেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কাজে কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে খাবারের এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। গোলাম সরকার জানান, ব্যবসার শুরুর সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের ভালোবাসা ও আস্থা তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। খাবারের মান ও স্বাদ ধরে রাখা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করাকেই তিনি ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম কারণ মনে করেন। একসময় অন্যের হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করা গোলাম সরকারের ছোট উদ্যোগ আজ এনায়েতপুরের পরিচিত খাবারের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। যমুনার টাটকা মাছ, দেশীয় রান্নার স্বাদ ও নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশ—সব মিলিয়ে গোলাম হোটেল এখন এনায়েতপুরের খাবারের সংস্কৃতির একটি পরিচিত নাম। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
