ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
কাউখালীতে দাখিল ও ভোকেশনালে ফল বিপর্যয়
* শিক্ষক সংকট, পাঠদানে অনিয়ম ও কোচিংনির্ভরতার অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 11 August, 2026, 7:26 PM

কাউখালীতে দাখিল ও ভোকেশনালে ফল বিপর্যয়

কাউখালীতে দাখিল ও ভোকেশনালে ফল বিপর্যয়

পিরোজপুরের কাউখালীতে ২০২৬ সালের দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশাজনক চিত্র। দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১২টি মাদ্রাসা থেকে ২৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৩০ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭২ জন, পাশের হার ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফল আরও উদ্বেগজনক। পঞ্চগ্রাম দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ জন। পাশের হার ১৪ শতাংশ। বেতকা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬ জন, সপ্তগ্রাম দাখিল মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ২ জন, বিজয়নগর আলিম মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন, শাপলেজা দাখিল মাদ্রাসায় ৭ জনের মধ্যে ৪ জন এবং কাউখালী কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ জনের মধ্যে মাত্র ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, উপজেলার কিছু মাদ্রাসায় শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। সময়মতো শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না হওয়া এবং ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নিয়মিত ক্লাস করার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত কোচিংয়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর হয়ে পড়লেও পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারছে না।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের মতে, শুধু ফল প্রকাশের সময় নয়, সারা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অবহেলা বা নিয়মবহির্ভূত কোচিং বাণিজ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। যেসব প্রতিষ্ঠানে ফলাফল খারাপ হয়েছে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে কোচিংয়ে জোর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কঠোর তদারকি করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক একাডেমিক মূল্যায়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে আগামী দিনেও এ ধরনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status