ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ফ্রিতে লেনদেন, যেভাবে মিলবে প্রণোদনাও
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 11 August, 2026, 12:42 PM

কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ফ্রিতে লেনদেন, যেভাবে মিলবে প্রণোদনাও

কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ফ্রিতে লেনদেন, যেভাবে মিলবে প্রণোদনাও

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আন্তঃব্যাংক চার্জ শূন্য হবে।

একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করা হয়েছে।

তবে এই প্রণোদনা সরাসরি ব্যবসায়ীর হাতে নগদ হিসেবে না গিয়ে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান পাবে, যার সুফল মার্চেন্টদের মাশুল কমানোর মাধ্যমে পাওয়ার কথা।

বাংলা কিউআর কী?

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা একটি একক ও আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টারঅপারেবল) কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। ফলে একজন ব্যবসায়ীকে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা এমএফএসের জন্য একাধিক কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ১ জুলাই থেকে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য নগদনির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো।

এবার লেনদেনে চার্জ কত?

বাংলা কিউআরভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রাহকের টাকা যে প্রতিষ্ঠান থেকে যাচ্ছে এবং মার্চেন্টের টাকা যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে- তাদের মধ্যে এই আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি বা সার্ভিস চার্জ আর নেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্তটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে বাংলা কিউআর লেনদেনে মোট ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ছিল। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৩৫ থেকে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আইআরএফ হিসেবে গ্রাহকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো।

নতুন সিদ্ধান্তে আইআরএফ তুলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর থাকা মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তাহলে ‘ফ্রি’ বলতে কী বোঝায়?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। বাংলা কিউআর ব্যবহারে ‘ফ্রি’ সুবিধাটি মূলত আইআরএফ শূন্য করার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আন্তঃব্যাংক এই নির্দিষ্ট চার্জ থাকবে না। তবে ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মার্চেন্ট মাশুল শূন্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।

যদিও আইআরএফ শূন্য হওয়ায় কিউআর গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

কারা পাবেন প্রণোদনা?

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল অনুমোদন করেছে। এই সুবিধা মূলত ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- প্রণোদনার টাকা সরাসরি মার্চেন্টকে দেওয়ার কথা নয়। যোগ্য লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা পাবে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান:

অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান- যে ব্যাংক বা এমএফএস মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে, তারা পাবে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ।

ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান- গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ।

অর্থাৎ যোগ্য লেনদেনে মোট প্রণোদনার হার ০.৩০ শতাংশ।

২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কীভাবে হিসাব হবে?

প্রণোদনার আওতায় প্রতিটি যোগ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা করা হবে।

সহজভাবে ধরলে, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাংলা কিউআর দিয়ে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করলে-

অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০% = ১ টাকা

ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০% = ২ টাকা

মোট প্রণোদনা = ৩ টাকা

আর ২ হাজার টাকার যোগ্য লেনদেন হলে মোট প্রণোদনা হবে ৬ টাকা- যার ২ টাকা অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান এবং ৪ টাকা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে।

এখানে ২ হাজার টাকা বলতে প্রতিটি যোগ্য লেনদেনের হিসাবযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ বোঝানো হয়েছে; মার্চেন্ট সরাসরি ২ হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন- এমনটি নয়।

তাহলে ব্যবসায়ীর লাভ কোথায়?

ব্যবসায়ীর সরাসরি প্রণোদনা না থাকলেও উদ্যোগটির মূল সুবিধা হলো লেনদেনের মাশুল কমানো। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আগে তুলনামূলক বড় চাপ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় আইআরএফ শূন্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুলও কমার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থাৎ, একজন ছোট দোকানি বাংলা কিউআর গ্রহণ করলে তার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়ার খরচ আগের তুলনায় কম হওয়ার কথা। একই সঙ্গে গ্রাহকরাও নগদ টাকা বহনের ঝামেলা ছাড়াই ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

প্রণোদনা পেতে কী কী শর্ত?

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে-

বড় লেনদেন ভেঙে ছোট করা যাবে না: শুধু বেশি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য একটি বড় লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা নিষিদ্ধ।

কৃত্রিমভাবে লেনদেন বাড়ানো যাবে না: ‘Transaction Structuring’ করে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।

সব লেনদেনে প্রণোদনা নেই: ব্যর্থ, বাতিল, রিভার্স, রিফান্ড, চার্জব্যাক বা বিতর্কিত লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

কোনো মার্চেন্টের লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে হবে। কৃত্রিম লেনদেন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার প্রমাণিত হলে প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া বা পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।

কবে থেকে কার্যকর?

বাংলা কিউআরভিত্তিক চার্জ শূন্য এবং নতুন প্রণোদনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট ১০ আগস্ট এ বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা জারি করেছে।

কেন এই উদ্যোগ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি যুক্ত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছেন। ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে একক বাংলা কিউআর ব্যবস্থা চালুর পর লেনদেনও দ্রুত বাড়ছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহ বাড়বে। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড তৈরি হওয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরকে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে বিস্তৃত করতে চাইছে।

উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান আইআরএফ থাকবে না, ফলে লেনদেনের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআরভিত্তিক যোগ্য লেনদেন বাড়াতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা বা বাড়ানোর সুযোগ নেই।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status