|
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের সমীকরণ, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের সমীকরণ, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত গত দুই চক্রের হিসাব বলছে, ফাইনালে উঠতে সাধারণত ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। সর্বশেষ চার ফাইনালিস্টের তিন দলই পেয়েছিল ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট। ব্যতিক্রম ভারত—২০২৩ সালে ৫৮.৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে উঠেছিল তারা। ২০২৫ সালের ফাইনালিস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ছিল ৬৭ শতাংশের বেশি। ডব্লিউটিসিতে জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট, ড্র হলে দুই দল ৪ পয়েন্ট করে এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট করে পায়। তবে মোট পয়েন্টের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পয়েন্টের শতাংশ। কারণ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলে। ফলে ম্যাচ বেশি খেলায় তাদের মোট পয়েন্টও বেশি হয়। ম্যাচসংখ্যার তুলনায় অর্জিত পয়েন্টের শতাংশ হিসাব করেই তৈরি হয় পয়েন্ট তালিকা। সেখানকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়া ৮ টেস্টে ৭ জয়, ১ হার | পয়েন্ট: ৮৭.৫০% চলতি চক্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া। আট টেস্টে সাত জয় ও এক হারে তাদের পয়েন্ট ৮৭.৫০ শতাংশ। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত পাওয়া ৯৬ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ১২ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার হাতে বাকি ১৪ টেস্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পর প্যাট কামিন্সদের যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। সবশেষে ভারত সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজ। ৬০ শতাংশ পয়েন্ট ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছয় জয় ও এক ড্র। আট জয় ও ছয় হার হলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৮.১৮ শতাংশে। তবে ভারত সফর অস্ট্রেলিয়ার জন্য কঠিন পরীক্ষাই হতে পারে। ভারতে সর্বশেষ ১২ টেস্টে তাদের জয় মাত্র দুটি। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ টেস্টে ৩ জয়, ১ হার | পয়েন্ট: ৭৫% দক্ষিণ আফ্রিকাও আছে শক্ত অবস্থানে। চার টেস্টে তিন জয় ও এক হারে তাদের পয়েন্ট ৭৫ শতাংশ। সামনে বাকি ১০ টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন আরও ৬৫ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্রতেই তা হয়ে যাবে। ছয় জয় ও চার হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.২৮ শতাংশ। আর সাত জয় ও তিন হার হলে উঠবে ৭১.৪৩ শতাংশে। নিউজিল্যান্ড ৬ টেস্টে ৪ জয়, ১ হার, ১ ড্র | পয়েন্ট: ৭২.২২% ছয় টেস্টে চার জয়, এক হার ও এক ড্র—নিউজিল্যান্ডও এখন পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে। তাদের বাকি ১০ টেস্ট। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলবে নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচগুলো হবে অ্যাওয়েতে। ৬০ শতাংশে যেতে তাদের দরকার আরও ৬৪ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও এক ড্রতেই তা সম্ভব। ছয় জয় ও তিন হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ। সাত জয় ও তিন হার হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭০.৮৩ শতাংশে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় চার টেস্টের সিরিজই হতে পারে নিউজিল্যান্ডের বড় পরীক্ষা। বাংলাদেশ ৪ টেস্টে ২ জয়, ১ হার, ১ ড্র | পয়েন্ট: ৫৮.৩৩% বাংলাদেশের বাকি আট টেস্ট। এর চারটি ঘরের মাঠে—প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড। অন্য চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের সামনে ৬০ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। ঘরের মাঠে চার টেস্টই জিতলে অন্তত একটি অ্যাওয়ে টেস্টও জিততে হবে। আরেকটি সমীকরণ হলো, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি ড্র পেলেও ৬০ শতাংশে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে উঠতে ৬০ শতাংশ যথেষ্ট নাও হতে পারে। গত দুই চক্রের ফল অন্তত সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ভারত ৯ টেস্টে ৪ জয়, ৪ হার, ১ ড্র | পয়েন্ট: ৪৮.১৫% ভারত এই মুহূর্তে বাংলাদেশেরও পেছনে। নয় টেস্টে চার জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৮.১৫ শতাংশ। বাকি নয় টেস্টের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ অ্যাওয়েতে খেলবে ভারত। ঘরের মাঠে পাঁচ টেস্টের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে ভারতের দরকার আরও ৭৮ পয়েন্ট। ছয় জয় ও দুই ড্র হলে পাওয়া যাবে ৮০ পয়েন্ট, আর সাত জয়ে ৮৪। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ভারতের পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে তারা। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভারতের রেকর্ড আশাব্যঞ্জক। ২০০৮ সালের পর সর্বশেষ পাঁচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। বাকি নয় টেস্টে সাত জয় ও দুই হার হলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৬২.৯৬ শতাংশ। আট জয় ও এক হার হলে তা দাঁড়াবে ৬৮.৫২ শতাংশে। শ্রীলঙ্কা ৪ টেস্টে ১ জয়, ১ হার, ২ ড্র | পয়েন্ট: ৪১.৬৭% চার টেস্টে একটি জয়, একটি হার ও দুটি ড্র—শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৪১.৬৭ শতাংশ। বাকি আট টেস্টে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে শ্রীলঙ্কার দরকার আরও ৬৭ পয়েন্ট। পাঁচ জয় ও দুই ড্র অথবা ছয় জয়েই তা সম্ভব। ছয় জয় ও দুই হার হলে পয়েন্ট হবে ৬৩.৮৯ শতাংশ। সাত জয় ও এক হার হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭২.২২ শতাংশে। ইংল্যান্ড ১৩ টেস্টে ৪ জয়, ৮ হার, ১ ড্র | পয়েন্ট: ২৪.৩৬% ইংল্যান্ডের অবস্থা বেশ কঠিন। ১৩ টেস্টে চার জয়, আট হার ও এক ড্রয়ের সঙ্গে ধীর ওভার রেটের কারণে কাটা গেছে ১৪ পয়েন্ট। বাকি আছে আট টেস্ট। সবগুলো জিতলেও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৫৩.১৭ শতাংশ। ফলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখন খুবই ক্ষীণ। পাকিস্তান ৬ টেস্টে ২ জয়, ৪ হার | পয়েন্ট: ২২.২২% ছয় টেস্টে দুই জয় ও চার হার পাকিস্তানের। এর সঙ্গে ধীর ওভার রেটের কারণে কাটা গেছে আট পয়েন্ট। সামনে বাকি সাত টেস্ট। সবগুলো জিতলেও সর্বোচ্চ ৬৪.১০ শতাংশে উঠতে পারবে পাকিস্তান। ছয় জয় ও এক ড্র হলে পয়েন্ট হবে ৫৮.৯৭ শতাংশ। ছয় জয় ও এক হার হলে ৫৬.৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ফাইনালের দৌড়ে ফিরতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সই করতে হবে পাকিস্তানকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ টেস্টে ২ জয়, ৮ হার, ২ ড্র | পয়েন্ট: ২০.৮৩% সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১২ টেস্টে মাত্র দুটি জয়, আট হার ও দুটি ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ২০.৮৩ শতাংশ। সামনে বাকি মাত্র দুই টেস্ট, দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৩২.১৪ শতাংশ। ফলে চলতি ডব্লিউটিসি চক্রে ফাইনালের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকেই গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
