|
থানা থেকে লুট করা ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র কার কাছে, দুই শতাধিক গাড়ি কোথায়?
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() থানা থেকে লুট করা ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র কার কাছে, দুই শতাধিক গাড়ি কোথায়? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সদর থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়েছিল। এ সময় কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ নিয়ে যায় একদল লোক। জব্দ ও আলামতের অসংখ্য মোটরসাইকেলও লুট হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করলেও এর অনেকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গণ আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এ দিন বিকালে একদল দুর্বৃত্ত শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে সদর থানায় হানা দেয়। হানা দেওয়া হয়, সদর ভূমি অফিস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায়। সেনাবাহিনীর প্রহরায় পুলিশ সদস্যরা প্রাণ নিয়ে সদর থানা থেকে চলে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা সদর থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পর অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে ফেলে। তারা সেখান থেকে প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি এবং কার্তুজ লুট করে। এর মধ্যে ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র সদর থানা পুলিশের এবং তিনটি পুলিশ লাইনসের সদস্যদের। লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ছিল পাঁচটি পিস্তল, ১২টি রাইফেল, পাঁচটি এসএমজি ও এলএমজি এবং ১৭টি শটগান। ওই সময় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে থানা চত্বরে থাকা পুলিশের ৪/৫টি যানবাহন ভস্মিভূত হয়। এছাড়া থানা চত্বরে থাকা মামলার আলামত দুই শতাধিক মোটরসাইকেল লুট করা হয়। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। এখনও ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক গুলি দুর্বৃত্তদের হাতে রয়েছে। নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদর থানা থেকে লুন্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্করা রয়েছে। বগুড়া মহানগরীর চেলোপাড়া এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা সদর থানা লুটের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্ত করে ওই নেতাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারলেই লুট করা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোটরসাইকেলগুলোর সন্ধান মিলতো। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, সদর থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি। এতে জনগণ নানা শঙ্কায় রয়েছেন। আইনশৃৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতোই খারাপ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও পুলিশকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে তারা যেকোনও মূল্যে লুণ্ঠিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করবেন। অন্যথায় এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধীরা যেকোনও সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, অস্ত্রগার থেকে লুট হওয়া ৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন সময় ১৭টি উদ্ধার হয়েছে। অবশিষ্ট ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হবে। এ থানায় নতুন যোগদান করায় সে দিন কী পরিমাণ গুলি ও কার্তুজ লুট হয়েছিল, সে সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
