|
মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির প্রস্তুতি তুঙ্গে: নিয়োজিত হচ্ছে হাজারো তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির প্রস্তুতি তুঙ্গে: নিয়োজিত হচ্ছে হাজারো তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার গত ২১ জুলাই থেকে দেশের জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় গুলোর মাধ্যমে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিদের নিকট থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ডাটা সংগ্রহের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষিত বেকার যুবক ও আইটি-দক্ষ তরুণদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে জানাযায়। সরকারী কাজ শুষ্ঠ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এত বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়োজিত করনে মনোনয়নে কোনরূপ রাজনৈতিক সুপারিশ বা চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬ এর নির্দেশনা অনুযায়ী সতভাগ নিরপেক্ষ ভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষিত বেকার যুবক ও আইটি-দক্ষ তরুণদের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনীত সকল তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের ৩১ জুলাই -এর মধ্যে উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সনাতনী কাগজের ফরমের পরিবর্তে আধুনিক আইটি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের পরপরই তাদের হাতে সরকারের নির্ধারিত ডিজিটাল ট্যাব (Tab) ও আধুনিক শুমারি সফটওয়্যার হস্তান্তর করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও ট্যাব বিতরণ শেষে আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৪৫ দিন দেশব্যাপী একযোগে মূল শুমারি কাজ পরিচালিত হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ: নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি প্রতিটি খানায় (Household) গিয়ে পরিবারের আয়, সম্পদ, জমিজমা (বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ০.৫০ একর বা তার কম জমি), বসবাস স্থলের প্রকৃতি ও সদস্য সংখ্যা সংক্রান্ত ৫০টিরও বেশি সূচকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রতি ১০ জন তথ্য সংগ্রহকারীর কাজের মান এবং সঠিকতা যাচাই করবেন একজন নিযুক্ত সুপারভাইজার। সংগৃহীত ডাটা সরাসরি সার্ভারে জমা হওয়ার পর প্রক্সি মিন্স টেস্ট (PMT) স্কোরের মাধ্যমে অতিদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের 'মা' বা 'জ্যেষ্ঠ নারী প্রধানের' নামে নিবন্ধিত হবে। এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি নগদ অর্থ সহায়তা (G2P), টিসিবি (TCB) খাদ্যবান্ধব সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকি কোনো ামধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্র ছাড়াই প্রকৃত সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে নীতিমালার মূল বৈশিষ্ট্য ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কয়েকবারের সংসদ সদস্য নারীনেত্রী রাশেদা বেগম হিরা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে গঠিত ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা কমিটির অধীনে এই নিয়োগ ও শুমারি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপিত হবে বলে প্রতিবেদককে জানালেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। উল্লেখ্য যে, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পাইলটিং প্রকল্প হিসাবে চলতি বছরের ১০ মার্চ ঢাকা গুলশানের কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐ দিন দেশের ৮টি বিভাগের আওতাধীন ১৪টি বৈচিত্র্যময় এলাকা/উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড যেমন: ঢাকার কড়াইল,ভাষানটেক, অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বান্দরবানের লামা, সুনামগঞ্জের দিরাই, ঠাকুরগাঁও সদর ইত্যাদি একাকায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রাথমিক ধাপে পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন করতে ৩৭,৮১৪টি পরিবারের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি 'জিটুপি' (G2P) পদ্ধতিতে পরিবারের মা বা জ্যেষ্ঠ নারী প্রধানের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান শুরু হয়। ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, কেবল ঢাকা জেলাতেই ( ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ) ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কাজের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ১৫৫৪৪ জন ও সুপার ভাইজার পদের জন্য ৩০৫১জন মনোনয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োজিত করা হবে মোট ৩৩৫৮ জন এবং সুপার ভাইজার ৬৬০জন। সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, এই ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কাজে তথ্য সংগ্রহকারী থাকবেন, ৬০৭৪১ জন, রিজার্ভ ১০% ৬০৭৪ জন, সুপারভাইজার ৬৬৮১ জন,জেলা মনিটর ১২৮ জন,( প্রতি জেলায় ২) বিভাগীয় মনিটর ২৪ জন, কেন্দ্রীয় মনিটর ১২৮ জন তিন শিফটে নিয়োজিত থাকবেন। শুমারী বিভাগ ১২ টি বলে জানাযায়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
