|
শ্রীপুরের পোশাক কারখানায় গণঅসুস্থতা: বিষাক্ত গ্যাস নয়, আতঙ্ক-মানসিক চাপই মূল কারণ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শ্রীপুরের পোশাক কারখানায় গণঅসুস্থতা: বিষাক্ত গ্যাস নয়, আতঙ্ক-মানসিক চাপই মূল কারণ সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে, বিষাক্ত গ্যাস, সংক্রামক রোগ কিংবা রাসায়নিক বিষক্রিয়া নয়—আতঙ্ক, মানসিক চাপ, গুজব, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত ও কর্মপরিবেশজনিত উদ্বেগের সমন্বয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন গাজীপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘ম্যাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেস (Mass Psychological Illness-MPI)’ বা গণ মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ইসলাম ভূঞার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটি ৯ জুলাই সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ, সংক্রমণজনিত উপসর্গ বা রাসায়নিক বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা পরীক্ষায় তাদের শারীরিক প্রতিবর্ত ক্রিয়াও স্বাভাবিক ছিল। কারখানায় শ্রম আইন অনুযায়ী বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা সন্তোষজনক এবং পরিদর্শনের সময় কোনো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত হয়নি। তবে কর্মস্থলের শব্দের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল। তদন্তে শ্রমিকদের বক্তব্যে উঠে আসে, অনেকেই সকালে না খেয়ে কাজে এসেছিলেন, কেউ পারিবারিক সমস্যা ও মানসিক চাপে ছিলেন, আবার কেউ অন্যদের অসুস্থ হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ না হয়েও ছুটি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অসুস্থতার অভিনয় করেছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি কুচক্রী মহল কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উসকানি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, কারখানার এক শ্রমিকের মৃত্যু, জ্বিন-ভূত নিয়ে গুজব, কাজের চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মানসিক উদ্বেগ—এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করায় শ্রমিকদের মধ্যে গণ মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তদন্ত কমিটি কারখানার মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো, উপসর্গ দেখা দিলে শ্রমিকদের দ্রুত পৃথক রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স ও সাইরেনের ব্যবহার সীমিত করা, শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং কর্মস্থলের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, “তদন্তে বিষাক্ত গ্যাস, সংক্রামক রোগ কিংবা রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আতঙ্ক, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, পারিবারিক সমস্যা, গুজব এবং কর্মপরিবেশজনিত উদ্বেগের সমন্বয়েই শ্রমিকদের মধ্যে গণঅসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
