ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
কয়েক দশকের বান্ধবী, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আপন বোন
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 13 September, 2026, 8:54 PM

কয়েক দশকের বান্ধবী, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আপন বোন

কয়েক দশকের বান্ধবী, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আপন বোন

ভারতে জন্ম নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবারে দত্তক সন্তান হিসাবে বেড়ে ওঠা দুই নারীর গল্প যেন রূপালী পর্দার কোনও আবেগঘন চিত্রনাট্য।

কয়েক দশক ধরে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পথচলা দুই নারী সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, তারা আসলে একই বাবা-মায়ের সন্তান, আপন বোন।

বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা গেলটিঙ্ক এবং ৪৪ বছর বয়সী মিনাল টিসেন, উভয়েরই জন্ম ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে। জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের মুম্বাই শহরের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে দুটি ডাচ পরিবার তাদেরকে দত্তক নিয়ে পাড়ি জমায় নেদারল্যান্ডসে।

কৈশোরে নেদারল্যান্ডসে একটি দত্তক সংস্থার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই চেহারার গঠন, হাসির ধরন আর অমায়িক অঙ্গভঙ্গির অদ্ভুত মিল দেখে চমকে যান দুজনে।

বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাচ গ্রামে বেড়ে ওঠা মীনা সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, অনুষ্ঠানে বন্ধুরা আমাদের দুজনকে আয়নায় চেহারা মেলাতে বললে আমি অবাক হয়ে যাই। ওরে বাবা! তার নাক, হাসি একদম আমার মতো! সে রাতে খাবারের টেবিলে আমি কেবল তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।

পরদিন ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময়ের পর শুরু হয় গভীর সখ্য। রক্তসম্পর্কের কোনও অফিসিয়াল তথ্য না থাকলেও তাদের মানসিক টান ছিল প্রবল। একে অপরকে চিঠিতে লিখতেন ‘বোন’ বলে। পড়াশোনা, কৈশোরের প্রেম, গান আর ব্যাকস্ট্রিট বয়েজের অ্যালবাম নিয়ে আলোচনাতেই কেটে যায় বছর।

তবে জীবনের নিয়মে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মিনাল ফ্রান্সে পাড়ি জমান আর মীনা প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এর আগে ২০০৩ সালে ১৯ বছর বয়সে জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজে মুম্বাইয়ের অনাথ আশ্রমেও গিয়েছিলেন মীনা, তবে ধুলোবালি জমা পুরনো নথি ঘেঁটেও স্বজনদের সন্ধান মেলেনি।

২০১৭ সালে মীনা নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও ডেটাবেইজে স্বজনের খোঁজ পাননি। মেমোরি ফুল হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে ফোন থেকে অ্যাপটি মুছেও ফেলেন তিনি।

অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে এসে মিনাল নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালে উন্মোচিত হয় দীর্ঘদিনের গোপন সত্য। মে মাসে পরীক্ষার ফলে তিনি দেখেন, মীনার ডিএনএর সঙ্গে তার শতভাগ (একই বাবা-মায়ের সন্তান) মিল রয়েছে। ২০ মে ফেসবুকে মীনাকে এই সুসংবাদ পাঠান মিনাল।

উত্তেজনায় প্রায় ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপে লগইন করার কথা জানিয়ে মীনা বলেন, আমরা একে অপরকে সবসময় বোন বলে ডাকতাম। এই ডিএনএ টেস্ট যেন আমাদের ভেতরের সেই পুরোনো অনুভূতিরই সত্যতা দিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর গত অগাস্টে তাদের আবেগঘন পুনর্মিলনী হয়। চোখের পানি, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা আর আনন্দে কাটানো ওই মুহূর্তে তারা বোন হিসেবে তোলেন জীবনের প্রথম সেলফি।

দুই সন্তান নিয়ে ফ্রান্সে বাস করা মিনাল রয়টার্সকে বলেন, আমরা বোন জানার আগেই বন্ধু ছিলাম। এতদিন আমরা জানতামই না যে আমরা আসলে আপন বোন।

তিন সন্তানের জননী মীনা জানান, তাদের চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি বা হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে এখন পরিবারের সবাই অবাক হন। বহু বছর পরস্পরের সুখ-দুঃখে পাশে না থাকার আফসোস ভুলতে এখন দুই বোন পরিকল্পনা করছেন একসঙ্গে ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের সেই পুরনো রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status