ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬ ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
আমি কেন হারালাম আমাদের সম্পর্ক? উত্তর ছিল প্রতিদিনের নীরবতায়
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 26 July, 2026, 7:54 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 26 July, 2026, 8:19 PM

আমি কেন হারালাম আমাদের সম্পর্ক? উত্তর ছিল প্রতিদিনের নীরবতায়

আমি কেন হারালাম আমাদের সম্পর্ক? উত্তর ছিল প্রতিদিনের নীরবতায়

আমি কখনও ভাবিনি একটা সম্পর্ক ভাঙার জন্য কোনো বড় ঝগড়ার দরকার হয়। সিনেমার মতো চিৎকার, দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যাওয়া—এগুলো তো নাটক। আমার বাস্তব জীবন ছিল অনেক বেশি শান্ত, অনেক বেশি “স্বাভাবিক”। আর ঠিক সেই স্বাভাবিকতার ভেতরেই ধীরে ধীরে আমরা একে অপরের থেকে সরে গিয়েছিলাম।

আমার সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল খুব সুন্দরভাবে। আমি আর সে—দুজনেই মনে করতাম, আমরা একে অপরকে খুব ভালো বুঝি। প্রথম দিকে সত্যিই তাই ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি একটা ভুল করতে শুরু করলাম—আমি ধরে নিয়েছিলাম, সে আমাকে না বললেও সব বুঝে নেবে। আমি খুশি কি না, কষ্ট পাচ্ছি কি না, বা আমার কী দরকার—সবই সে বুঝে যাবে, এমনটাই ভাবতাম। কিন্তু মানুষ মন পড়তে পারে না, এটা আমি অনেক পরে শিখেছি।

ধীরে ধীরে আমি আর বলতাম না। ছোট ছোট অভিমান জমতে থাকত, কিন্তু মুখে আসত না। আমি ভাবতাম, “এটা নিয়ে আবার কী বলব!” কিংবা “এটা তো এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু ঠিক হয়নি। বরং প্রতিটা না বলা কথাই আমাদের মধ্যে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করছিল।

আরও একটা জিনিস আমি বুঝতেই পারিনি—ঝগড়া এড়িয়ে চলাই নাকি শান্তির সম্পর্ক। আমি মনে করতাম, আমরা যদি তর্ক না করি, তাহলে সম্পর্ক ভালো চলছে। তাই আমি কঠিন কথাগুলো এড়িয়ে যেতাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, সমস্যাগুলো এড়িয়ে গেলে সেগুলো হারিয়ে যায় না, শুধু বড় হয়ে ফিরে আসে।

একদিন একটা ছোট বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আসলে বিষয়টা ছোটই ছিল—কিন্তু তখন বুঝলাম, ছোটটা আসলে জমে থাকা অনেক বড় জিনিসের ফল। আমি কথা বলিনি, সে বোঝেনি, আর মাঝখানে তৈরি হয়েছে এক দীর্ঘ নীরবতা। সেই নীরবতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমি আরও একটা ভুল করেছিলাম—সবসময় তর্কে জিততে চাইতাম না ঠিক, কিন্তু নিজের দিকটাই “সঠিক” প্রমাণ করতে চাইতাম। মনে হতো, আমি ঠিক বললে তবেই সমস্যা সমাধান হবে। কিন্তু সম্পর্ক কোনো প্রতিযোগিতা নয়। সেখানে কেউ জেতে না, কেউ হারে না—অথচ আমরা দুজনেই হারছিলাম, সেটা তখন বুঝিনি।

এর পাশাপাশি আমি নিজের জীবনটাকেও ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা কম, নিজের শখগুলো বন্ধ, সব কিছুতেই সে-ই কেন্দ্রবিন্দু। আমি ভাবতাম এটা ভালোবাসা। কিন্তু পরে বুঝেছি, এটা ভালোবাসা নয়—এটা ছিল অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। আর এই নির্ভরশীলতাই সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করেছিল।

সবচেয়ে বড় ভুলটা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া। অন্যদের ছবি দেখে আমি নিজের সম্পর্ককে মাপতাম। সুন্দর ডিনার, হাসিমুখের ছবি, ট্রাভেল পোস্ট—সব দেখে মনে হতো, আমাদের মধ্যে কোথাও একটা ঘাটতি আছে। কিন্তু আমি ভুলে যেতাম, পর্দায় শুধু ভালো মুহূর্তগুলোই দেখা যায়, বাস্তবের অগোছালো দিকগুলো নয়।

আজ পিছনে তাকালে মনে হয়, আমাদের সম্পর্ক ভাঙেনি একদিনে। ভেঙেছে প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুলে—না বলা কথা, এড়িয়ে যাওয়া আলোচনা, আর নীরব প্রত্যাশায়। আমরা কেউই খারাপ ছিলাম না, শুধু ঠিকভাবে কথা বলিনি।

এখন আমি বুঝি, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় কোনো নাটকীয় প্রচেষ্টা লাগে না। লাগে শুধু স্পষ্ট কথা বলা, সময়মতো অনুভূতি প্রকাশ করা, আর একে অপরকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করা—যারা ভুল করতে পারে, আবার শিখতেও পারে।

আমি এখন আর ভাবি না যে ভালোবাসা মানে সবকিছু নিঃশব্দে বোঝা। ভালোবাসা মানে কথা বলা, শোনা, আর মাঝেমধ্যে ভুল বোঝা—তারপর সেটা ঠিক করার চেষ্টা করা। কারণ শেষ পর্যন্ত, সম্পর্ক ভাঙে না হঠাৎ করে—ভাঙে না বলা কথাগুলোর ভারে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status