বিশ্বজুড়ে ঝড়তোলা সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লেনিন মরিনো উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে তার দেশের জন্য একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন আগেই। এবার তিনি অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আশ্রয়ের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন।কোনও প্রমাণ দেওয়া ছাড়াই মোরেনো সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পারিবারিক ছবি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে দায়ি করেন তিনি। তবে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা তা অস্বীকার করেছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের এই অভিযোগের পর এক টুইটার বার্তায় উইকিলিকস জানিয়েছে, দেশটির লন্ডন দূতাবাস থেকে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যে কোনো সময় বের করে দেওয়া হতে পারে। শুক্রবারের ওই টুইটে বলা হয়,“একুয়েডরের একজন শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা উইকিলিকসকে বলেছেন, আইএনএ পেপারস অফশোর স্ক্যান্ডেলকে অজুহাত বানিয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যে কোনো সময় দূতাবাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ তার প্রতিষ্ঠিত উইকিলিকসের মাধ্যমে ২০১০ সাল মার্কিন গোপন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস উন্মোচন করে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরিণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও চাপ প্রয়োগেরর অনৈতিক একাধিক ঘটনা পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে উইকিলিকিস আলোড়ন তৈরি করে। যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়।যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে।
অ্যাসেঞ্জের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের জুন মাসে সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর থেকে তিনি গ্রেফতার এড়াতে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে রয়েছেন। তবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন অ্যাসেঞ্জ। এমনকি তার বিরুদ্ধে হওয়া ধর্ষণ মামলা খারিজও হয়ে গেছে। তবে সুইডেনের আইন অনুযায়ী আদালতে হাজির না হওয়ার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ।
২০১৭ সালে লেনিন মোরেনো ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে অ্যাসাঞ্জকে দৃঢ় সমর্থন দিয়ে গেছে দেশটি। তবে, মোরেনো ক্ষমতা গ্রহণের পরপর অ্যাসাঞ্জকে ‘হ্যাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
সম্প্রতি ইকুয়েডরের রেডিও সম্প্রচার অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মোরেনো দাবি করেন, লন্ডন দূতাবাসে আশ্রয়ের শর্ত ভঙ্গ করেছেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি বলেন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করার অধিকার অ্যাসাঞ্জের নেই। এছাড়া তিনি অন্য দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে ইকুয়েডরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
অ্যাসাঞ্জ বলে আসছেন, ইকুয়েডর তার আশ্রয় বাতিল করতে চাইছে। এছাড়া সাক্ষাৎপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তার ওপরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে আসছেন তিনি। অ্যাসাঞ্জের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করা হচ্ছে বলেও দাবি করে আসছেন তিনি।
তবে ইকুয়েডর বলছে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে আচরণ করছে তারা। তবে তার আশ্রয়ের পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না।