|
পর্তুগালের আদালতে মামলা: প্রবাসীদের মধ্যে অস্বস্তি
ভুয়া ডক্টরের ডিগ্রী ব্যবহার করে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ভুয়া ডক্টরের ডিগ্রী ব্যবহার করে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রতারণার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে পর্তুগালের আদালতে রফিক ওরফে ডক্টর রফিকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন রবিউল ইসলাম নামে ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশি। এই মামলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনলাইন গ্রুপগুলোতেও রফিকের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেতে থাকে। এ নিয়ে লিসবনে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম পর্তুগিজ আদালতে কিছু দিন আগে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে এ প্রতিবেদকের কাছে ওই মামলার কপিসহ অভিযোগ ওঠা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন। রবিউল ইসলামের অভিযোগ, ‘ডক্টরেট ডিগ্রিধারী পরিচয় ব্যবহার করে রফিকুল আমার সঙ্গে এবং আরও অনেকের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশী ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় শুনে আমার কোম্পানিতে চাকরি দিয়েছিলাম। কিন্তু তার প্রতারণার ধরন খুব জটিল ও সুক্ষ্ম ছিল, যা প্রথম দিকে ধরতেই পারিনি। দেখা হলেই নিজের পিএইচডি বা গবেষণা নিয়ে নানা কথা বলতেন। কৌশলে এক ধরনের আস্থা তৈরি করে ব্যবসায়ীক সহযোগী (পার্টনার) হয়ে যান। পরেই দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি বিক্রির নামে অনেকের কাছ থেকে আগাম ‘ডাউন পেমেন্ট’ ও প্রতিষ্ঠান থেকে কৌশলে মোটা অংকের ইউরো (মুদ্রা) সরিয়ে নিজের আয়ত্বে নেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ে গাড়ি বুঝে না পেয়ে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক রবিউল ইসলামের কাছে গেলেই তখন রফিকের বিভিন্ন অপকর্ম সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। পরে এ নিয়ে রফিককে জবাবদিহি করতে বললে উল্টো রবিউল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানারকম বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াতে থাকেন। এসব নিয়ে পর্তুগালের প্রবাসীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে রফিকের বিরুদ্ধে আরও অনেকে প্রতারণার অভিযোগ তুলেন বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী রবিউল। পরে ন্যায় বিচারের জন্য তিনি রফিকের বিরুদ্ধে পর্তুগালের আদালতে দুটি মামলা করেন বলে জানান। পর্তুগালের একাধিক প্রবাসী ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ডেনমার্কে পাড়ি জমান রফিক। বর্তমানে তিনি দেশটির রাজধানী লিসবনে বসবাস করছেন। রফিকের অফিসের দরজা, ভিজিটিং কার্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব জায়গায় নামের আগে ‘ডক্টর’ লেখা থাকে। ডেনমার্কের রসকিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ফলে সেখানে সবাই তাকে ‘ডক্টর রফিক’ নামেই চেনেন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ রসকিল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইলের মাধ্যমে যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন রফিকের ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভুয়া। এমনকি, রফিকের অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে প্রবাসী মহলে। মূলত উচ্চশিক্ষিত বা ডক্টরেট ডিগ্রির পরিচয় ব্যবহার করেই আর্থিক প্রতারণার সুযোগ নেন তিনি। কেউ কেউ তার সঙ্গে ব্যবসা করতে গিয়ে, কেউ নাগরিকত্ব পেতে কাজের ভুয়া চুক্তিপত্র বানাতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে ইউরোপীয় আইনে তদন্ত কিংবা বিচার শুরু হলে উভয় পক্ষই বিপাকে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় অনেকেই নাম প্রকাশ করে অভিযোগ জানাতে রাজি হননি। ভুয়া পিএইচডি ও প্রতারণার বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে তার নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ব্যবসায়ীক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। তবে পিএইচডির সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃত জানান।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
