ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬ ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সীমান্ত সম্মেলন: শূন্যরেখায় আটকে থাকাদের বিষয়ে আলোচনা তুলতে পারে দিল্লি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 9 June, 2026, 10:23 PM

সীমান্ত সম্মেলন: শূন্যরেখায় আটকে থাকাদের বিষয়ে আলোচনা তুলতে পারে দিল্লি

সীমান্ত সম্মেলন: শূন্যরেখায় আটকে থাকাদের বিষয়ে আলোচনা তুলতে পারে দিল্লি

ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেন রণধীর জয়সওয়াল।বাংলাদেশের দিকে একের পর এক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার মধ্যে ভারতের দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে চলছে সীমান্ত সম্মেলন।

সোমবার (৮জুন ) শুরু হওয়া বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম এই সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং কাঁটাতারের বেড়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

পাশাপাশি সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া মানুষ, যাদের বিজিবি গ্রহণ করেনি, তাদের বিষয়েও আলোচনা উঠতে পারে।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, সীমান্তের শূন্য রেখায় কিছু মানুষ আটকে থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

জবাবে তিনি বলে, এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং চলমান বৈঠকেও বিষয়টি উঠতে পারে।অবৈধ বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি গ্রহণ না করায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।অবশ্য, ৭২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রোববার রাতে সীমান্তের আলো নিভিয়ে তাদের ফেরত নেয় বিএসএফ।

শনিবার লালমনিরহাটের সীমান্তের তিনটি এলাকা দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। তাদের কঠোর অবস্থান, অতিরিক্ত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে বিএসএফ পুশ ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বলে তথ্য দেয় ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল।

একইদিন নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখায় থাকা নারী পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ সরকার সাফ জানিয়ে দেয়, ভারত থেকে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে তা একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়।

বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সোমবার বলেন, অবৈধ কেউ থেকে থাকলে তাদের ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মানা উচিত দুদেশেরই। আমরা আশা করব, ভারত সরকার, এটা তারা সিরিয়াসলি নেবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ মেকানিজম এবং ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে আমাদের এই কাজটি তারা সমাধান করবে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বর্তমানে বিজিবি এবং বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি বৈঠক চলছে। সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আমরা আগেও যেমনটা বলেছি, কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করেন, তবে আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে এই সীমান্ত সম্মেলন।

পিটিআই-এর বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ লিখেছে, বৈঠকের আগে বিএসএফ বলেছে তাদের আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশিদের দ্বারা বিএসএফ সদস্য ও ভারতের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ করা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, সীমান্ত বেড়া ভাঙার ঘটনা এবং বেড়া ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়াবলী।

এছাড়া ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী বা উগ্রপন্থি দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যা, আস্থা বৃদ্ধির উপায় এবং অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।

রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আটক শিবির বা হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করে রাজ্য সরকার।

রোববার কলকাতায় এক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তার সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এক মাসে রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলোতে স্থাপিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর ‘অপেক্ষায় রাখা হয়েছে’।

কিন্তু সীমান্তে এমন কোন হস্তান্তরের কথা এখনো স্বীকার করেনি বিজিবি। উল্টো বিভিন্ন সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার সর্বশেষ মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকটি ২০২৫ সালের অগাস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুই বাহিনীর মধ্যে এটি প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে এই বৈঠকটি বছরে একবার অনুষ্ঠিত হতো। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে এটি বছরে দুইবার করে পর্যায়ক্রমে দিল্লি এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status