ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 21 July, 2026, 8:17 PM
সর্বশেষ আপডেট: Tuesday, 21 July, 2026, 9:44 PM

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

মঙ্গলবার  (২১ জুলাই ) নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন কংগ্রেস নেতারা। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।

বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ অন্য কংগ্রেস নেতাদের আটক করা হয়। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাব চাইতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এসেছি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

জোরালো হচ্ছে মোদির পদত্যাগের দাবি

দেওয়ালে রক্তের দাগ, উল্টে পড়ে থাকা ব্যারিকেড, ভাঙা কাচ এবং রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা স্যান্ডেল। কোথাও একটা স্কার্ফ, কোথাও ভাঙা চশমা আর ছেঁড়া শার্ট—ভারতের রাজধানী জুড়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার স্মারক হিসেবে পড়ে রয়েছে এগুলো।

নয়া দিল্লির প্রাণকেন্দ্র— পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং ঔপনিবেশিক আমলের চত্বর কনট প্লেস— সোমবারের পুলিশি ক্র্যাকডাউনের চিহ্ন বহন করছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, স্থবির করে দিয়েছিল পুরো রাজধানী।

আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ পার্লামেন্টের একবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, তবে পুলিশের টিয়ার গ্যাসে বাধ্য হয়ে পিছিয়ে আসে। এ ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

১৮ বছর বয়সী অংশুল দেব বলেন, আমি এখনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি দিল্লিতে আছি।

অংশুল আরও বলেন, আমাদের অভিভাবকরা যে সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, তারা আমাদের সাথে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের মতো আচরণ করছে। এটি আমাদের দেশ, এবং তাদের বিদ্বেষমূলক রাজনীতি থেকে আমরা আমাদের দেশকে মুক্ত করছি। আমরা এই মোহ ভেঙে দিতে এখানে এসেছি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের তরুণ সমাজ, যা বিশ্বের বৃহত্তম জেন-জি (Gen Z) গোষ্ঠী, তাদের মধ্যে গত দুই মাস ধরে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়; আবার কোথাও কোথাও যে-সব শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের কপি চেয়েছিল, তারা দেখে যে তাদের ভুল গ্রেডিং করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের জেরে অন্তত ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসব প্রতিবাদ নিয়ে কোনো কথা বলেননি, যদিও সোমবার আন্দোলনকারীদের খুব কাছাকাছি দূরত্বে থাকা পার্লামেন্টে তাকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা, কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী নয়া দিল্লিতে মোদীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান নেন। অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে যোগ দেন এবং তিনি সবাইকে একত্র হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সরকারের কাউকে জবাবদিহির আওতায় না আনার মানসিকতা এবং পুলিশের নির্মম দমন-পীড়ন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগকেই জোরালো করেছে—তিনি সামাজিকভাবে নির্বাচিত হলেও কার্যত একজন স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করেন।

এক স্বৈরাচারীর মুখোমুখি

পুলিশ জোরপূর্বক ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। সোমবার মধ্য নয়াদিল্লি জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়।

লেখক ও মোদীর জীবনীকার নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, এত বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর উপস্থিতি নিজে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোদি আন্দোলনকারীদের কোনো ছাড় না দিয়ে নিজেকে কঠোর ও অটল মনোভাবের নেতা হিসেবে জাহির করার চিরাচরিত কৌশলই বেছে নিয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই প্রধানমন্ত্রীর জীবনীকার আরও যোগ করেন, ভোটব্যাংকে টান না পড়া পর্যন্ত মোদি কোনো প্রতিবাদ গুঁড়িয়ে দিতে বা ব্রুট ফোর্স (পশুবল) প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না।

তিনি আরও বলেন, তারা তাদের পুরোনো দমন-পীড়নের পথেই হাঁটবে। তরুণদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ এবং সরকারবিরোধী হাওয়া থাকা সত্ত্বেও মোদি এই আন্দোলন থেকে নিজেকে পরাজিত হিসেবে তুলে ধরতে চাইবেন না।

সূত্র: আল-জাজিরা



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status