ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৪ জুলাই ২০২৬ ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
৭ মাসেও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিন গংদের, জামিনের পরও গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ
ত্বোহা হাসান ভূঁইয় স্বাধীন, নাঙ্গলকোট
প্রকাশ: Saturday, 4 July, 2026, 8:38 PM

৭ মাসেও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিন গংদের, জামিনের পরও গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

৭ মাসেও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিন গংদের, জামিনের পরও গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাত মাস ধরে আলাউদ্দিন গংসহ প্রায় ২০০ পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। আদালত থেকে জামিন লাভের পরও পুলিশ তাদের গ্রামে প্রবেশে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত এবং ৫জন আটক হওয়ারও দাবি করেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা বৈধভাবে জামিনে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও নিজ বাড়িতে ফিরতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তাদের ভাষ্য, একই মামলার অপর একটি পক্ষের লোকজন গ্রামে অবস্থান করতে পারলেও তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এখানে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছি। অন্য কোনো সমস্যা নেই।”

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের বলেছেন, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। থাকতে হলে এমপি সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘরের আসবাবপত্র নয়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকা, ইউসুফ, ফখরুলসহ ৭০-৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী পক্ষের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

অন্যদিকে, নাঙ্গলকোট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের নাম রয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে আনা হয়েছে। পুলিশের আঘাতে ৪জন আহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটে নি। এটি মিথ্যা। আলিয়ারা গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যারা প্রবেশ করেছেন তারা চলে গিয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status