|
পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
ইয়ারব হোসেন, সাতক্ষীরা
|
![]() পাটকেলঘাটার লোকনাথ নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তিন কন্যাসন্তানের জননী পারুল খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে গত শনিবার (৬ জুন) সকালে তাকে লোকনাথ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুর ২টার দিকে ডা. রমিজ রেজা অপারেশনের মাধ্যমে তার সিজার করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে পারুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্য ক্লিনিকে হস্তান্তরের চেষ্টা চালায়, কিন্তু তার আগেই ক্লিনিকের ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পারুল।সিজারের সময় তার নাড়ি কাটা পড়েছে জানা গেছে। নিহতের বাবা আজিত খাঁ জানান, এটি পারুলের তৃতীয় সিজার হওয়ায় ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি আগেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। সে সময় ক্লিনিকের মালিক পুলক পাল অভিজ্ঞ সার্জন দিয়ে অপারেশন করানোর আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে পারুলের ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়ে সাদিয়া খাতুন। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, লোকনাথ নার্সিং হোমটি বর্তমানে একটি ‘মৃত্যুকূপে’ পরিণত হয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে ও অপচিকিৎসার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত এখানে ৫ জন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে ক্লিনিকটি বন্ধ হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আবারও তা চালু হয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লোকনাথ নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক পুলক কুমার পাল জানান, ভুল চিকিৎসায় নয়, বরং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে ছুটিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডা. ফরহাদ জামিলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
