ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২ জুন ২০২৬ ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রেমিকের নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু শরীরে ৫১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 2 June, 2026, 5:35 PM

প্রেমিকের নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু শরীরে ৫১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ

প্রেমিকের নির্যাতনে শিশুর মৃত্যু শরীরে ৫১টি ক্ষত, সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ

ভারতের কেরালা রাজ্যে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রথমে পরিবার দাবি করেছিল, শিশুটি খাবার গলায় আটকে শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলা শারীরিক নির্যাতনের কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শিশুর নাম আরশিদ। ঘটনাটি ঘটে তিরুবনন্তপুরমের কাছাকাছি নেদুমাঙ্গাড এলাকার পানাভুরে। গত ২৯ মে সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এসএটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রথমে শিশুটির সৎবাবা আশকার জানান, খাবার গলায় আটকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীরে মোট ৫১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত এবং পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগও ছিল বলে জানা যায়।

ঘটনার পর ৩০ মে পুলিশ শিশুটির মা আখিলা (২১) এবং তার সঙ্গী আশকারকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠায়।

তদন্তে জানা যায়, আশকার শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, আখিলার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে শিশুটিকে তিনি বাধা হিসেবে দেখতেন। গত এক মাস ধরে নির্যাতন চলছিল এবং ২৯ মে মারধরের পর শিশুটি মারা যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ঘটনার পুনর্গঠনের সময় পুলিশ বাড়ি থেকে নির্যাতনে ব্যবহৃত একটি লাঠি ও লাইটার উদ্ধার করে। এছাড়া নির্যাতনের প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে শিশুটির দুই হাত ভেঙে যায়। বিষয়টি আড়াল করতে সাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। পরে প্লাস্টার করা অবস্থায় শিশুটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, নির্যাতনের সময় শিশুটির কান্না থামাতে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো। ঘটনার আগে থেকেই এ ধরনের সহিংসতা চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির মা আখিলা স্বীকার করেছেন, তিনি নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন এবং একাধিকবার নিজের চোখে দেখেছেন। তবে তিনি শিশুটিকে রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা, নির্যাতন ও আলামত নষ্টের অভিযোগে মামলার তদন্ত চলছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status