ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২ জুন ২০২৬ ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুরে চুরির অপবাদে শিক্ষককে মারধর, বিষপানে আত্মহত্যা
মোঃ মেহেদী হাসান আলমগীর,শরীয়তপুর
প্রকাশ: Tuesday, 2 June, 2026, 11:43 AM

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুরে চুরির অপবাদে শিক্ষককে মারধর, বিষপানে আত্মহত্যা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুরে চুরির অপবাদে শিক্ষককে মারধর, বিষপানে আত্মহত্যা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামে চুরির অপবাদে এক শিক্ষককে বেদম মারপিট করেছে বলে জানা যায়। পরে চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে শিক্ষক সজিব মোল্লা(২৭) নামে ঐ শিক্ষক বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পহেলা জুন সজীব মোল্লার দাফন শেষ করে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী ও সজীব মোল্লার শিক্ষার্থীগণ। 

এ বিষয়ে সজিব মোল্লার পিতা হান্নান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সজিবকে গত ২৭ মে বুধবার রাত আটটার দিকে গঙ্গাপ্রসাদ এলাকায় নিয়ে চুরির অপবাদে এমদাদ মাদবরের ছেলে এলেম মাদবর(৩৮), সজল মাদবর(৩২) ও সেলিম মাদবর(৪০) অনেকে মারধর করে। আমার ছেলে সজীব মোল্লা ছিল নির্দোষী। মূলত: এলেম মাদবরের ছেলে জোনায়েদ মাদবর(১৪) ও সুমন ফরাজির ছেলে লাবিব ফরাজী(১৪) নদীর পাড়ে স্বর্ণের কানের দুল পায়।

ঐ স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করতে মাদারীপুর যায়। স্বর্ণের দোকানদার জোনায়েদ ও লাবিবের নিকট থেকে ক্রয় করতে অস্বীকার করে। জোনায়েদ ও লাবিবের শিক্ষক ছিল সজিব মোল্লা। স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করতে না পারায় শিক্ষক সজিব মোল্লাকে জরুরী ভাবে মোবাইল করে মাদারীপুর নিয়ে যায়। সজিব মোল্লাকে ভুল বুঝায় যে, তারা নদীর পাড়ে স্বর্ণের কানের দুল পায়। এটা বিক্রি করতে তারা মাদারীপুরে এসেছে।

আমরা বাচ্চা মানুষ দেখে আমাদের থেকে স্বর্ণের দোকানদার কানের দুল ক্রয় করবেনা। পরে শিক্ষক হিসেবে সজীব মোল্লার সহযোগিতায় কানের দুলটি ৫৫ হাজার টাকা বিক্রি করে। এই কারণ দেখিয়ে আমার ছেলে সজীবকে মারধর করে। চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে ২৯ মে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সজীব বিষপান করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে রবিবার সন্ধ্যায় মারা যায়। আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে এলিম, সজল ও সেলিম দায়ী। এর উপযুক্ত বিচার চাই।

সজীব মোল্লার মা বলেন, আমার নির্দোষ ছেলেকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে এলিম, সজল ও সেলিম মারপিট করায় লজ্জায় ও ঘৃনায় বিষপান করে মরে গেল। এর বিচার আমি চাই। 

রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল বলেন, সজীব মোল্লা শিক্ষক হিসেবে একজন ভালো লোক ছিলেন। আর এরকম অপবাদ নিয়ে মৃত্যু আসলে আপত্তিজনক। তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার হওয়া উচিত। এলিম মাদবর গংদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

পালং মডেল থানাধীন সন্তোষপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ হাবিব বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা পালং মডেল থানায় রেকর্ড হবে। সজীব মোল্লার আত্মহত্যার ঘটনায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা আমি করবো। চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়ায় মাস্টার সজিব মোল্লা বিষ পানে আত্মহত্যা করেন।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে মাস্টার সজিব মোল্লা কে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারদর করেন একই গ্রামের এলিম মাদবর ও সজল মাদবর, সেলিম মাদবর, পরে আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য বিষপানে আত্মহত্যা করেন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকার বাসি বিচারের দাবি করেন। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status