|
শেরপুরে প্যারাগন ফিডের বর্জ্যে বিপর্যস্ত জনপদ, নষ্ট ধান-মরছে মাছ ও গবাদিপশু
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শেরপুরে প্যারাগন ফিডের বর্জ্যে বিপর্যস্ত জনপদ, নষ্ট ধান-মরছে মাছ ও গবাদিপশু বুধবার (১৩ মে) উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে প্যারাগনের পণ্যবাহী গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মধ্যমকুড়া গ্রামে ২০২২ সালে ২৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে প্যারাগন ফিড লিমিটেড এগ্রো কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ ডিম উৎপাদনকারী মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি আশপাশের ফসলি জমি ও জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে। এতে অন্তত ১২৪ কৃষকের প্রায় ১০০ একর জমির ধান লালচে হয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি দূষিত পানিতে মাছ মারা যাচ্ছে এবং সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে বাতাসের সঙ্গে তা পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বিন্নিবাড়ি, হাতিবান্দা, শালমারা, কাকরকান্দি, পলাশিয়া, কাউলারা, রসাইতলাসহ অন্তত ১০টি গ্রাম। এসব এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও শহর আলীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শুরুতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন আর কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের আরও অভিযোগ, গ্রামের সরু পাকা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভারী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসার বলেন, বিষাক্ত বর্জ্যে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর আগে কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হেদায়েতুল ইসলাম জানান, প্যারাগন কর্তৃপক্ষ বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমোদন নিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে যে পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্যারাগন ফিড লিমিটেডের এজিএম আনোয়ারুল কবির বলেন, কারখানায় একটি ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও ইটিপি স্থাপন করে দুর্গন্ধ ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণের বিষয় তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
