ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকৃতির কাছে হেরে গেলেন কৃষক থামছেনা পরিবারগুলোর আর্তনাদ
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: Thursday, 30 April, 2026, 4:00 PM

প্রকৃতির কাছে হেরে গেলেন কৃষক থামছেনা পরিবারগুলোর আর্তনাদ

প্রকৃতির কাছে হেরে গেলেন কৃষক থামছেনা পরিবারগুলোর আর্তনাদ

হাওরে ডুবছে ধান, কৃষকের আর্তনাদ । কিশোরগঞ্জের  হাওরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধানের ক্ষেত। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা ধান রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে কৃষককদের জন্য। তারা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। 

কৃষকরা জানান, কয়েকদিন আগেও যে জমিতে ধান কাটার উৎসব চলছিল, সেখানে এখন শুধু পানি আর পানি। শ্রমিক ও তেল সংকটের কারণে হারভেস্টার মেশিনে চালাতে না পারায় ধান কাটার গতি কম ছিল। এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষক পরিবারগুলো। প্রায় বুক সমান পানিতে নেমে তীব্র পরিশ্রম করে তারা যতটুকু পারছেন ধান বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ডুবে থাকা ধান কেটে নৌকা বা ভেলায় করে ঘরে আনতে হচ্ছে, যা এই মূহুর্তে হাওরের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও শেষ সম্বল রক্ষায় কোনো ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করছেন না কৃষকরা।
কৃষকরা  বলেন “হাওরে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটতেছি, যা পারি তা বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এত কষ্ট করে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হইতেছে।” “হাওরের পানির নিচের ধান কাটছি ঠিক, কিন্তু ভেজা ধান ঘরে তুলে শুকানোর উপায় নাই। রোদ না উঠলে ধান পচে যাবে। এখন রোদ না উঠলে আমরা একদম দিশেহারা।

হাওরের কৃষকরা বলেন, “একদিকে বজ্রপাত, অন্যদিকে বৃষ্টি, আমাদের সব শেষ। তাও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পানিতে নেমে ধান কাটছি। না কাটলে আমাদের আর কিছুই থাকবে না, তাই যত কষ্টই হোক এই ধানই আমাদের সারা বছরের ভরসা, তাই সব ঝুঁকি নিচ্ছি “যা পাই তাই তুলার চেষ্টা করছি, অনেক টাকা ঋণে এবার ক্ষেত করছিলাম। নেই শ্রমিক, নেই মেশিন এরই মধ্যে নতুন ভোগান্তি  এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া  আমবা বাচ*তে  পারব না।”

 ফের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার উপক্রম কিশোরগঞ্জের হাওরপাড়ের কৃষকের। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে হাওরের পর হাওর ধানী জমি। চোখের সামনে ডুবছে তাদের একমাত্র কষ্টের ফসল। যেসব ধান কাটা হয়েছিল, সেসব মাড়াই ও শুকানো নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে হাওরের মেঠোপথগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কাটা ধান পরিবহন নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষক। জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ধানের খলা।

একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে হাওরপাড়ে নেমে এসেছে চরম বিষাদ। ফসল হারিয়ে কাঁদছে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীর হাওরপাড়ের কৃষক। 

এমন ক্ষতি আর সংকটের মুখে তাদের পড়তে হবে, ক’দিন আগেও ছিল ধারণার বাইরে। সপ্তাহখানেক আগেও বোরো ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত ছিল হাওরের কৃষক। কিন্তু নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে মেতে ওঠার আগেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ ও প্লাবিত হতে থাকে একের পর এক হাওর। ফলে ধান কাটা উৎসবের বদলে হাওরের কৃষক এখন বিষণ্ণ।

জেলাকৃষি  সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, হাওর উপজেলাগুলোর কৃষি কর্মকর্তাগণ হাওর পরিদর্শন করছেন।  তিনি নিজেও  হাওর পরিদর্শন করেছেন। ‘এবার জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন হাওরের ২0৩১ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status