|
ঘুমের সমস্যা ও অবসাদে ভুগছেন? দেখে নিন এই মিনারেলের ঘাটতি হচ্ছে কি না
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ঘুমের সমস্যা ও অবসাদে ভুগছেন? দেখে নিন এই মিনারেলের ঘাটতি হচ্ছে কি না ম্যাগনেশিয়াম এমন একটি প্রয়োজনীয় মিনারেল, যা শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখা, পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুর সঙ্গেই এটি সরাসরি যুক্ত। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুম। অনিদ্রা বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সঙ্গে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই মিনারেল মস্তিষ্কের স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে, ফলে শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। ম্যাগনেশিয়াম কম থাকলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে ঘুমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভিটামিন ডি ও আয়রনের মতোই আজকাল ম্যাগনেশিয়ামও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার আগে বোঝা দরকার শরীরে সত্যিই ঘাটতি আছে কি না। কারণ অকারণে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও উপকারী নয়। বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক প্রয়োজন ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রায় ৩১০ মিলিগ্রাম, গর্ভবতী হলে প্রায় ৩৫০ মিলিগ্রাম এবং ৩১ বছরের বেশি বয়সে ৩২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা আরও বেশি—১৯ থেকে ৩০ বছরে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম এবং ৩১ বছরের পর ৪২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত। শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে শুধু ঘুম নয়, আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশিতে টান ধরা, অস্থিরতা, মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া, এমনকি হৃদস্পন্দনের অনিয়মও। এই কারণেই এটিকে “নীরব প্রভাবক” বলা হয়, যা ধীরে ধীরে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তবে ভালো খবর হলো, এই ঘাটতি পূরণ করা তুলনামূলক সহজ। সবসময় সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করেও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম বাড়ানো যায়। কিছু সাধারণ খাবারেই রয়েছে এই মিনারেলের ভালো উৎস। যেমন—কুমড়োর বীজে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, মাত্র এক আউন্সেই প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। চিয়া সিড, আমন্ড, কাজু এবং চিনেবাদামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। সবজি ও পানীয়ের মধ্যেও এর উৎস রয়েছে। পালং শাক, সয়ামিল্কের মতো খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাবারগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডায়েটে রাখলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণ সম্ভব। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা, মানসিক চাপ বা শারীরিক দুর্বলতা বজায় থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘুমের সমস্যা বা অবসাদকে শুধু মানসিক চাপ বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় শরীরের ভেতরের ছোট একটি ঘাটতিই বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলের দিকে নজর রাখলে শরীর ও মন—দুটোই অনেকটা ভারসাম্যে রাখা সম্ভব। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
বাঘাইছড়িতে দমকা হাওয়ায় গাছ পালা ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
