|
দশমিনায় সিঁধ কেটে স্বপ্ন চুরি,প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে সংগ্রামী মা হাসিনা বেগমের অসহায় আর্তনাদ
মো: আমিনুল ইসলাম ,পটুয়াখালী
|
![]() দশমিনায় সিঁধ কেটে স্বপ্ন চুরি,প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে সংগ্রামী মা হাসিনা বেগমের অসহায় আর্তনাদ শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল মধ্যরাতে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বড় গোপালদী গ্রামের খাদেম আলী সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়,প্রায় ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালে, স্বামী মোঃ নূর হোসেন সিকদারের মৃত্যুর পর থেকেই হাসিনা বেগমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তিনটি শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান,ছেলে হাসান (২৫), মেয়ে কুলসুম আক্তার (২৫) এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম (১১) কে নিয়ে শুরু হয় তার টিকে থাকার লড়াই। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকেই যেখানে ভেঙে পড়েন, সেখানে হাসিনা বেগম হাল ছাড়েননি। মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে তিনি বেছে নেন আত্মসম্মানের পথ। এর পরে একটি গরু দিয়ে শুরু করা তার ছোট্ট উদ্যোগই ছিল জীবনের নতুন আশার আলো। ধীরে ধীরে সেই একটি গরু থেকে তিনি আরও দুটি গরু কিনে সংসারের হাল ধরেন। নিজের পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য যেন তার সঙ্গে নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। জরাজীর্ণ ঘরটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে,এমন শঙ্কায় নতুন ঘর তৈরির স্বপ্ন দেখছিলেন হাসিনা বেগম। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৩ এপ্রিল ঠাকুরহাট বাজারে গিয়ে তিনি তার সবচেয়ে বড় গরুটি বিক্রি করেন। প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হাতে পান। ব্যাংক বন্ধ থাকায় টাকাটি তিনি বাসাতেই রেখে দেন।কিন্তু কে জানত, এই টাকাই হয়ে উঠবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখের কারণ! ২৪ এপ্রিল শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার ঘরের পেছনের দেয়াল সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে এবং সেই দেড় লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এক রাতেই ভেঙে যায় তার নতুন ঘরে থাকার স্বপ্ন। ![]() দশমিনায় সিঁধ কেটে স্বপ্ন চুরি,প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে সংগ্রামী মা হাসিনা বেগমের অসহায় আর্তনাদ তিনি আরও বলেন, থানায় গিয়ে মামলা করার সাহসও পাচ্ছেন না। এতে এলাকায় শত্রুতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই শেষ ভরসা হিসেবে আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছেন এই অসহায় মা। স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা জানান,এমন একটি ন্যক্কারজনক চুরির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভেঙে দেয়নি, বরং মানবিকতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। একজন সংগ্রামী নারীর বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এভাবে লুট হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়। তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন একটাই দাবি,দ্রুত এই চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক। হাসিনা বেগমের জীবনের এই নির্মম বাস্তবতা যেন আমাদের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধকে নতুন করে জাগ্রত করে।এই প্রত্যাশাই সবার। বিষয়টি দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান,এই ঘটনার কথা শুনে আমি নিজেই গঠনের স্থলে গিয়েছি দেখে আসছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগপেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
