|
তালায় আর্সেনিকের থাবায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, আতঙ্কিত এলাকাবাসী!
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
|
![]() তালায় আর্সেনিকের থাবায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, আতঙ্কিত এলাকাবাসী! স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত পানি পরীক্ষা ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি জেনেও সেই পানি ব্যবহার করছেন এই অঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ মানুষ। ফলে দিন দিন লম্বা হচ্ছে আর্সেনিক আক্রান্তের সংখ্যাও। ভুক্তভোগী রুমানা বেগম জানান, তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ পরিবারের চারজন সদস্য আর্সেনিকজনিত রোগে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সংসারে ইনকাম করার মতো তেমন কেউ না থাকায় কষ্টে সংসার চালিয়ে দিন পার করছেন তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, গ্রামে অন্তত ৩ শতাধিক মানুষ ইতোমধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)'র পক্ষ থেকে আমাদের একটি ট্যাংকের ব্যবস্থা করেছিল। পুকুরের পানি এসে থেকে ট্যাংকিতে আসতো। সেই পানি আমরা সবাই মিলে পান করতাম কিন্তু বর্তমানে পুকুর ও ট্যাংকির অবস্থা খুবই খারাপ। এটা নষ্ট হওয়ার কারণে সুপেয় পানি পান করতে পারছি না। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এই জনপদ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্সেনিকের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। শুরুতে ত্বকে কালো বা সাদা দাগ, পরে তা ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগে রূপ নিতে পারে। তাই এই রোগ প্রতিরোধে একমাত্র উপায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
