|
হঠাৎ স্টোরিতে ৮০ হাজার ভিউ! এক রাতেই বদলে গেল বর্ণিতার জীবন
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() হঠাৎ স্টোরিতে ৮০ হাজার ভিউ! এক রাতেই বদলে গেল বর্ণিতার জীবন হাসপাতালের বিছানা থেকে বর্ণিতার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ জার্নি শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানাননি; চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে। আক্ষেপ ঘুচল কখনো ‘প্রথম’ না হতে পারাটা বর্ণিতার জীবনের একটা বড় আক্ষেপ ছিল। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ শুক্রবারের রাত তাঁর জীবনের সব অপ্রাপ্তি মুছে দিয়েছে। বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বর্ণিতার চোখ থেকে ঘুম উধাও। সকাল থেকে বাসায় আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়, আর মোবাইলে হাজার হাজার বার্তা। বর্ণিতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে বাড়ছে তাঁর অনুসারী। একটি স্টোরিতেই প্রায় ৮০ হাজার ভিউ! বড়দের সান্নিধ্য পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া—এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে—এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’ দায়িত্বের ভার বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”’ বড় পর্দায় সুযোগ কেবল ট্রফি ও গাড়িই নয়, বিজয়ী হিসেবে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে বর্ণিতা রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’ পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চলবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যই ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে। নতুনদের প্রতি বার্তা ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
