|
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন: আইজিপি
নতুন সময় প্রতিনিধি, গাজীপুর
|
![]() দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন: আইজিপি শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, হাসপাতালে শিশু জন্মের পর সেখান থেকে শিশু চুরির ঘটনাও ঘটে, আবার কবরস্থান থেকে কংকাল বা লাশ চুরির ঘটনাও দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রয়োজন হয়। তাই একটি কার্যকর ও উন্নয়নমূলক সমাজ গঠনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আপনারা পুলিশকে সহযোগিতা করুন। সেই ফ্যাসিস্ট যুগের পুলিশ যাতে বাংলাদেশে আর না থাকে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন—বাংলাদেশের পুলিশ হবে সৎ, মানবিক এবং জনগণের বন্ধু।” আইজিপি আরও বলেন, একটি ঐতিহাসিক ও চমৎকার নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সর্বজনগ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে এই অর্জনকে ম্লান করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। থানায় সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীদের প্রতি পুলিশের আচরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো বিচারপ্রার্থী যেন থানা থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে না যান—এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে আরও পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বা সাইবার প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৯৯ শতাংশ শ্রমিকই শান্তিপ্রিয় এবং তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে চান। কিন্তু মাত্র ১ শতাংশ উস্কানিদাতার কারণে অনেক সময় অস্থিরতা তৈরি হয়। তাদের চিহ্নিত করতে পারলে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।” যানজট নিরসনে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি আসন্ন ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান আইজিপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন ও গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আহমদ ভূঞা। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
