|
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন মানতে গিয়ে আসামীর কাঠগড়ায় সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম সুমন
# সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন মানতে গিয়ে আসামীর কাঠগড়ায় সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম সুমন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতালতে গত ১১/১১/২০২৫ তারিখ দায়েরকৃত সিআর মামলাটির (৩৭৫/২৫) তদন্তভার দেয়া হয় সুত্রাপুর থানা পুলিশকে। গত ৫ মার্চ মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনেজুড়ে প্রকৃত ঘটনার সঠিক উপস্থাপন থাকলেও শেষে সমন্ময়হীনভাবে উল্টো মতামত প্রাদান করা হয়েছে। যাতে একই তদন্তের দ্বিমুখী বা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিদ্যমান। পুলিশের তদন্ত ও সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবদন এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জনা যায়, ঘটনার শুরু গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর দুপরে রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষী বাজার শাখায়। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহরিয়া খানম অপর একজনের একাউন্টে ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে আসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে জানান, ৫০ হাজার টাকার বেশি কোনো হিসাবে পাঠাতে প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেয়ার বিধান বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু ডাঃ শাহরিয়া খানম পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা পঠাতে চাপ দেন ওই কর্মকর্তাকে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ জহিরুল ইসলাম সুমন বিষয়টি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে ডাঃ শাহরিয়া উত্তজিত হয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল করে তোলেন। তার টাকা জমা নিতেই হবে বলে তিনি প্রভাবশালীদের নামকরে ভয়ভীতি দেখান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রভাশালীদের কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে ধরিয়ে দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত একাধিক গ্রাহক ডাঃ শাহরিয়াকে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন। একপর্যায়ে ম্যানেজারের কক্ষে তাকে অরুদ্ধ করেন ডাঃ শাহরিয়া এবং জোর করেন জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা জমা নিতে। এসময় দরজার সামনে দাড়িয়ে ম্যানেজারকে কক্ষ থেকে বের হতে বাধা দেন। তখন সেলিম মিয়া নামে এক গ্রাহক দরজা খুলে অবরুদ্ধ ম্যানেজারকে বের করে আনেন। অথচ এই ঘটনাকেই নিজের শ্লীলতাহানি বলে ডাঃ শাহরিয়া লিখিত অভিযোগ দেন সোনালী ব্যাংক এমডি বরাবর। এতে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিতর্কের মুখে পড়েন ম্যানেজার মোঃ জহিরুল ইসলাম সুমন। নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে জেনে ঘটনাটি অনুসন্ধান করে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রফেশনাল প্রোফাইলে প্রকাশ করেন সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)। ঘটনার ১৬ দিন পর প্রকাশিত ডকুমেন্টারিতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে চলে এলে ভুক্তভোগী ম্যানেজার সুমন নিজের সম্মান ফিরে পান এবং প্রথম ধাক্কায় কিছুটা রক্ষা মেলে। একইসঙ্গে ব্যাংকের এমডির নির্দেশে দ্রুত কাজ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত দল। এ তদন্ত প্রতিবেদনেও শ্লীলতাহানির অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যাংকের তদন্ত চলাকালে ডাঃ শাহরিয়া সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলেও আভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় প্রভাব দেখিয়ে ডাঃ শাহরিয়া যাদের দিয়ে ম্যানেজারকে হুমকি দিয়েছেন তারা হলেন সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এসপিও মোহাম্মদ ইউসুফ দেওয়ান এবং ডিজিএম মোঃ গোলাম হাসান। পরবর্তীতে তাদের চাপেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ভেঙ্গে টাকা জমা নিতে বাধ্য হন শাখার ম্যানেজার। ডাঃ শাহরিয়ারের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে দিনের ব্যস্ত সময়ে শাখার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কর্যক্রম প্রায় ৩০ মিনিট অচলাবস্থার মুখে পড়ে। এদিকে ব্যাংক কতৃপক্ষ তদন্ত শেষে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় আদালতে মানহানীর মামলা করেন ডাঃ শাহরিয়া, তার বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে। অপরদিকে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে প্রকৃত ঘটনার সঠিক চিত্র। পুলিশ বলেছে একজন ভুক্তভোগী ব্যাংকারকে রক্ষার জন্য সাংবাদিক পেশাগত কারনে ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন। সেদিন কি কি হয়েছে ঘটনাস্থলে এবং কেন হয়েছে তাও পুলিশের প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ বর্ননায় একরকম বলে গিয়ে তদন্তের মতামতে এসে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা উল্টে গেছে। প্রতিবেদনে একাধিকবার পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ও ব্যাংকারের মধ্যে কোনো যোগসাজশের মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের প্রমান পাওয়া যায়নি। আবার শেষে বলা হয়েছে, বাদিনীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতিয়মান। সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ডাঃ শাহরিয়া শেষ পর্যন্ত প্রভাব খাটিয়ে ম্যানেজারকে টাকা জমা নিতে বাধ্য করেছেন, সেহেতু তিনিই তো জিতেছিলেন। তুচ্ছ ঘটনাটি সেখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু তিনি থেমে না গিয়ে নারীর সবচেয়ে চুরান্ত অস্ত্র শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলেন। তখন ঘটনার ভিডিও পাবলিক না হলে শুরুতেই ম্যানেজারের বড় ক্ষতি হয়ে যেতো। এ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ মোকাবেলায় বর্তমানে হিমসিম খাচ্ছেন ভুক্তভোগী ম্যানেজার সুমন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে টাকা জমা নিতে চাওয়াই এখন তার কাল হলো। ডাঃ শাহরিয়া শুরুতে এমডির কাছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দিলেও পরে আদালতে মামলা করছেন মানহানীর। যা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে মন করছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে ঘটনা সম্পর্কে প্রকাশিত ভাইরাল ভিডিওটি সেসময়ে ব্যাংকিং সেক্টরে ব্যাপক আলোচিত হয়। একজন ব্যাংকারকে তার কক্ষে অন্যাভাবে নাজেহাল হতে দেখে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তিব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ বার, শেয়ার হয়েছে ৫৩০০, কমেন্টস পড়েছে ২৬০০ এবং প্রতিক্রিয়া ৩৪ হাজার। শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ, ম্যানেজারকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ৩০ মিনিট শাখা প্রায় অচল করে রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাঃ শাহরিয়া বলেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগে এনে আদালতে আমি কোনো মামলা করিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা প্রচার হওয়ায় আমি মানহানি মামলা করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তদন্তকারী অফিসার তাইলে কেনশীলতা হানির কথা উল্লেখ করল? এর কোন সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ইরিব্লকের সেচ মোটর চুরির ঘটনায় থানায় মামলা;গ্রেফতার-২
পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন
সাজেকও বাঘাইছড়ির দূর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
