|
মর্গে বাবা-মায়ের লাশ, দেশে ফিরলো একমাত্র জীবিত মেয়ে ফাইজা
রায়হানুর রহমান
|
![]() মর্গে বাবা-মায়ের লাশ, দেশে ফিরলো একমাত্র জীবিত মেয়ে ফাইজা কথাগুলো বলেছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমী (৩০)-এর মেঝ কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)। একই দুর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহ এবং গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০)। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। সে জানে, সবাই তার মতো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ঈদের আগেই দেশে ফিরবে। পরিবারের সবার সঙ্গে একসাথে ঈদ করার স্বপ্নই এখন তার একমাত্র ভরসা। ওমরাহ পালন শেষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গত ৩ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি সময় রাত ৩টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) ওমরাহ শেষে ফেরার পথে আবহা এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় মেয়ে মোহনা, ছোট মেয়ে সুবাহ এবং চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। গুরুতর আহত হয় ফাইজা। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজাকে তার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মামা তানভীর আহম্মেদের সহায়তায় বাংলাদেশে আনা হয়। বর্তমানে সে রামগঞ্জ উপজেলার পাঁচরুখি গ্রামে নানার বাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন। লাশ দেশে আনতে প্রয়োজন ১৫–১৬ লাখ টাকা ফাইজার চাচা বাহারুল আলম জানান, “আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের চারজন সদস্য এখনো সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ দেশে আনতে প্রায় ১৫/১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। অনেকে সমবেদনা জানাতে আসছেন, কিন্তু কীভাবে লাশ দেশে আনবো—সেই দিকনির্দেশনা কেউ দিচ্ছে না। এত টাকা জোগাড় করবো কোথা থেকে? না পারলে হয়তো সেখানেই দাফন করতে হবে।” ফাইজার মামা, কাতার ফেরত মামুন হোসেন বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু বিপুল অর্থের প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন দ্রুত লাশগুলো দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।” নিহত চালকও বাংলাদেশি একই দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর (৩০) ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন খোকার ছেলে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রামগঞ্জসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র জীবিত শিশুটি এখনো জানে না তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি—যে বাবা-মা ও দুই বোন আর কখনো ফিরবে না। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
