খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং সংসদীয় আসনে ভূমিধস বিজয়ের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সংযম, সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের আস্থার কারণেই এ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি খাগড়াছড়িবাসীর বিজয়। এটি আমার দলের প্রতিটি তৃণমূল নেতাকর্মীর ঘাম, শ্রম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।” বিজয়ের উচ্ছ্বাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ঝগড়া-বিবাদ কিংবা প্রতিহিংসামূলক আচরণে জড়িয়ে না পড়তে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। তিনি বলেন, আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।
তার ভাষায়, “রাজনীতি মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা; কিন্তু তা কখনো শত্রুতা নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে—কিন্তু সহিংসতা বা প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই।” নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও সম্মান ও সৌহার্দ্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে কেউ জয়ী হন, কেউ পরাজিত—কিন্তু সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে নম্র ও সহনশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “মানুষই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষা করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।”এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। এ সিদ্ধান্তকে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, অযথা শোডাউন বা শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগই হবে বিজয়ের প্রকৃত উদযাপন।
খাগড়াছড়িবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া এই আস্থা ও সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করা হবে তার সর্বোচ্চ দায়িত্ব। পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সবাই মিলে খাগড়াছড়িকে উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত করবো। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতিই হবে আমাদের পথচলার মূলমন্ত্র।”
বিজয়ের পর তার এমন সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল ।