ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
স্বামীকে হত্যা করে স্যুটকেসে লাশ, পর্দায় বাস্তবের সেই ভয়ংকর ঘটনা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 3 February, 2026, 12:36 PM

স্বামীকে হত্যা করে স্যুটকেসে লাশ, পর্দায় বাস্তবের সেই ভয়ংকর ঘটনা

স্বামীকে হত্যা করে স্যুটকেসে লাশ, পর্দায় বাস্তবের সেই ভয়ংকর ঘটনা

২০০৪ সালের বসন্তে নিউ জার্সির একটি ছোট শহরে ঘটে এমন এক ঘটনা, যা তখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে স্তব্ধ করে দেয়। ৩৯ বছর বয়সী কম্পিউটার বিশ্লেষক বিল ম্যাকগোয়ার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁর শরীরের টুকরাগুলো তিনটি স্যুটকেসে প্যাক করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত হন তাঁর স্ত্রী মেলানি ম্যাকগোয়ার! এ ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘দ্য স্যুটকেস কিলার: দ্য মেলানি ম্যাকগোয়ার স্টোরি’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ২০২২ সালে। কিন্তু বাস্তবে সত্যি কী কী ঘটেছিল?

মেলানি ও বিল পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিলেন। বিল কম্পিউটার বিশ্লেষক, মেলানি পেশায় নার্স। দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন বাড়িতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল নতুন বাড়ির কাগজপত্রের কাজ শেষ। সেই সন্ধ্যায় বিল দুই বন্ধুকে ফোন করে নতুন বাড়ির সুখবরটি জানান। এটাই ছিল জীবিত অবস্থায় তাঁর শেষ যোগাযোগ।

এরপর কী ঘটেছিল, তা জানা যায় তদন্তে। মেলানি তাঁর কম্পিউটারে অদ্ভুত সব বিষয় সার্চ করছিলেন—‘অদৃশ্য বিষ’, ‘কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো যায়’, ‘মৃত্যুর জন্য ইনসুলিন’, ‘ক্লোরাল হাইড্রেট’ ইত্যাদি। বিশেষ করে ‘ক্লোরাল হাইড্রেট’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেননা, এই একই ওষুধ বিলের গাড়িতে পাওয়া যায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, মেলানি তাঁর বস ব্র্যাডলি মিলারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছিলেন। মিলার বিবাহিত ছিলেন। তবে আদালতে তাঁর সঙ্গে অপরাধের কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, মেলানি বিলকে ক্লোরাল হাইড্রেট দিয়ে মাদকাসক্ত করেন, তারপর তাঁকে গুলি করে হত্যা করে মৃতদেহের অংশগুলো তিনটি স্যুটকেসে ভরে চেসাপিক বে-তে ফেলে দেন।

মেলানির অভিযোগ, তাঁর স্বামীর জুয়া খেলার বদভ্যাস ছিল। আলান্টিক সিটিতে অপরাধীদের হাতে মারা গিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, বিল তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। তবে বিচারক ও জুরি এই যুক্তি মানেননি।

২০০৭ সালে মেলানির বিচার শুরু হয়। প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল হত্যার আগের দিন মেলানির কেনা বন্দুক, সন্দেহজনক বিভিন্ন ই–মেইল ও ফোন কল। ১৪ ঘণ্টা ধরে রায় নিয়ে বিচারকেরা বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পরে মেলানি ম্যাকগোয়ারকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বন্দুক রাখা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়। সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে তাঁকে আজীবন কারাদণ্ডসহ অতিরিক্ত ৫ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়।

মেলানি বর্তমানে নিউ জার্সির এডনা মাহান পুনর্বাসনকেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি পারোলে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য হবে ২০৭৩ সালের ২০ মে! তখন তাঁর বয়স ১০০ বছর। কারাগারে থাকাকালে মেলানি স্বাস্থ্য ও জীবনধারার ওপর নিবন্ধ লেখেন। তাঁর জন্মনাম মেলানি স্লেট ব্যবহার করে। ২০২৪ সালে তিনি লিখেছেন, ‘আমার দুই সন্তান আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। আমি তাদের হারিয়ে শোকাহত, কিন্তু মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিদিন লড়াই করছি। এই লড়াইয়ে যারা হেরে যায়, তাদের দুঃখ আর অক্ষমতা নিঃশেষ।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status