|
কুড়িগ্রামে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা আজ ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার খামারবাড়ি কুড়িগ্রাম- এর উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো.আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চারা রোপনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই সময়কে সামনে রেখে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। জেলার ৯ উপজেলায় ধান চাষে উপযুক্ত জমি গুলোতে দেখা যাচ্ছে কৃষকরা কেউ ট্রাক্টর, কেউ গরু, কেউ ঘোড়া- মহিষ দিয়ে হালচাষ করে ধানের চারা রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে মাঠেই ব্যস্ত সময় পাড় করছে। উপ পরিচালক এও জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় ১লাখ ১৭ হাজার ৩’শ ৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে কৃষকরা। অনেক জায়গায় বিভিন্ন জাতের ইরি- বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী মোগলবাসা ঘাট এলাকার কৃষক মাজেদ, ইউনুছ আলী, মেহের জামান ও নয়া মিয়া জানান, চারা সংকটে তারা হিমশিম খাচ্ছেন, ওদিকে রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার তালুক কালোয়া গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী, পাঠক গ্রামের জাকির হোসেন, মানিক মিয়া, রতিরাম কমলও ঝাঁ গ্রামের স্বর্ণকমল মিশ্র, অর্জূণ মিশ্র গ্রামের দুলাল কাজি নামের কয়েকজন কৃষক বলেন, বরাবরের মতো এবারও ইরি- বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুত করতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করতে হচ্ছে, সেচ দিতে হচ্ছে এতে খরচ বেশি হচ্ছে। তারাও চারা সংকট ও চারার মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশার কথা জানিয়েছেন। কৃষকরা স্বীকার করে বলেন, এবার প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরো বীজতলা কিছুটা বিনষ্ট হয়েছে। তবে এখনও হাট-বাজারগুলোতে ধানের চারা তেমন ওঠেনি তাই বিভিন্ন জাতের ধানের চারা কিছুটা সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, রৌমারী, রাজীবপুর, উলিপুর এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন চাঞ্চলের কৃষকদের তথ্য মতে জানা যায়, তারাও চারা সংকট, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশ প্রকাশ করে এবার ইরি- বোর চাষাবাদে সংশয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে খামারবাড়ি কুড়িগ্রাামের উপ-পরিচালক মো, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ইরি- বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুত ও চারা লাগানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩০হাজার ৬’শ ৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আলু ও সরিষা আবাদ ঘরে তোলার পর আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চারা রোপনের কাজ চলবে। এরিমধ্যে কৃষকদের সকল সংশয় দূর হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে এতে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তিনি জানান। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
