|
দুর্গম চরাঞ্চলে সবজির সবুজ বিপ্লব কলা সাবলম্বী আলফাডাঙ্গার কৃষক: জামির শিকদার
আলতাফ হোসেন, অনিক
|
![]() দুর্গম চরাঞ্চলে সবজির সবুজ বিপ্লব কলা সাবলম্বী আলফাডাঙ্গার কৃষক: জামির শিকদার মাত্র ছয় মাস আগে খুলনার একটি নার্সারি থেকে ‘জিএমএস’ জাতের কলাগাছের ৫০টি চারা সংগ্রহ করে নিজের পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করেন জামির শিকদার। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কলাগাছগুলোতে দেখা যায় আশাব্যঞ্জক ফলন। মাত্র ছয় মাস বয়সেই প্রতিটি গাছে বিশাল আকারের কলার ছড়া ধরেছে। প্রতিটি ফানায় ৬ থেকে ৮ হালি করে গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হালির মতো কলা রয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত জামির শিকদার জানান, নিজের উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,“আমি ধান, পাট, সরিষা, কালোজিরা, কলা ছাড়াও বেগুন, লাউ, সিম, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো, পাতাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, করল্লাসহ প্রায় ২০ প্রকার মসলা ও তরিতরকারির চাষ করে থাকি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এতদিনেও কোনো কৃষি কর্মকর্তা বা কৃষিবিদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাইনি।” নতুন জাতের কলার ফলন দেখে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এমনকি দূরদূরান্ত থেকেও অনেক কৃষক তার কলাগাছের চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে আপাতত তিনি চারা বিক্রি করছেন না বলে জানান। এ বিষয়ে জামির শিকদার বলেন,“প্রথমে আমি আমার অন্য জমিগুলোতে এই জাতের কলার চাষ সম্প্রসারণ করতে চাই। তারপর পর্যায়ক্রমে চারা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেলে তিনি আরও পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি চরডাঙ্গা এলাকার ভাঙাচোরা ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জোর দাবি জানান। তার ভাষায়,“রাস্তাঘাট ভালো হলে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ কমবে। এতে আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভ আরও বাড়বে।” চরাঞ্চলের প্রতিকূলতা জয় করে মোঃ জামির শিকদারের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষি সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রয়োজন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
