|
কূটনৈতিক জোনে ফুটপাত হকারদের দখলে, সড়কজুড়ে অটোরিকশা-ইজিবাইক
#৩/৪ বছর যাবত ধরে ফুটপাত দখল করে দোকান #দোকানরাস্তা দখল করে অবৈধ্য অটোরিকশা ও লেগুনা স্ট্যান্ড #ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বের হওয়ার মূল ফটোক রিক্সা, লেগুনার জট
শামীম শেখ
|
![]() কূটনৈতিক জোনে ফুটপাত হকারদের দখলে, সড়কজুড়ে অটোরিকশা-ইজিবাইক সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নতুন বাজার বাজার সংলগ্ন মাদানী এভিনিউ এর রাস্তার পাশে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত হকারদের দখলে। শুধু তা-ই নয় কেউ মূল সড়কে ভ্যান গাড়ি দিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করছে আবার কেউ ফুটপাত দখল করে স্থায়ী দোকান বসিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করছে। আব্দুর রহিম নামের একজন পথচারী বলেন, আমি প্রতিদিন এই ১০০ ফিট মাদানি এভিনিউ দিয়ে চলাচল করি, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এখানকার ফুটপাত এখন আর পথচারীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য নেই। পুরো ফুটপাত জুড়ে রয়েছে অবৈধ দোকান, ভ্যান, নির্মাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের দখলদারিত্ব। ফলে আমাদের বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়েই হাঁটতে হয়, আর সড়ক অটোরিকশা , ইজিবাইক ও লেগুনার দখলে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয়, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও নারীদের জন্য এটি আরও বেশি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এখানে এমন অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক। বিদেশি দূতাবাস, ফায়ার সার্ভিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আশেপাশে থাকলেও ফুটপাতের এই বেহাল দশা যেন কারো নজরেই আসছে না। আমরা সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি, কিন্তু এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছি না। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুত এই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আবার কেউ দখল করতে না পারে। ফুটপাত পথচারীদের মৌলিক অধিকার, এটি দখলমুক্ত রাখা সবার স্বার্থেই জরুরি। একজন গার্মেন্ট সামগ্রী বিক্রেতা বলেন আমরাতো স্থায়ীভাবে কোন দোকান করছি না, ভ্যানের উপরে চলন্ত অবস্থায় বিক্রি করছি। যদি আমাদেরকে সরে যেতে বলা হয় আমরা সরে যাই। কিন্তু বাস্তবে চিত্র উল্টা রাস্তার দুপাশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি বিভিন্ন আইটেমের পণ্য দিয়ে সাজানো ভ্যান রয়েছে এবং ফুটপাতের ও ওই একই চিত্র। কেউ আবার তিন চার বছর যাবত একই স্থানে স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান করছে। দুপুর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়ক এদের দখলে থাকে। বৈদ্যুতিক সংযোগ কোথা থেকে আসে এমন প্রশ্নে একজন দোকানদার বলেন কেউ একজন তার নিজের নামে একটি কারেন্টের মিটার নিয়েছে যেখান থেকে প্রতি দোকানে দৈনিক ৩০ টাকার বিনিময়ে একটি লাইট জ্বালাতে পারে। তবে কার নামে মিটারটি নামানো আছে এমন প্রশ্নে মুখ খোলেনি ওই দোকানদার। কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করে এই ফুটের দোকান এমন প্রশ্নে দুই তিন জনের নাম জানা গেলেও তাদের পরিচয় বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ভবন মালিকদের সামনের অংশটুকু তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং সমন্বয়কারী হিসেবে দুজনের নাম উঠে আসে তারা হলেন রহমান এবং আনোয়ার। অনেকের আবার ২ থেকে ৩ টি দোকান ও রয়েছে। মূল সড়কের এক অংশ দোকানিদের দখলে আরেকটি অংশ অটোরিকশা এবং লেগুনার দখলে পথচারীদের হাটার স্থান খুব সংকীর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এক পাশে থানা ও অপর পাশে বারিধারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন। নিয়ম অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের আশেপাশের সড়ক যানজট মুক্ত থাকার কথা কিন্তু এখানের চিত্রটি ভিন্ন। জরুরী প্রয়োজনে এখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি বের হতে হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম নতুন সময় কে বলেন ফুটপাত উচ্ছেদ সিটি কর্পোরেশনের কাজ। যখন সিটি কর্পোরেশন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আসে আমরা সহযোগিতা করি। ভাটারা থানার বিপরীত পাশে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এর বারিধারা শাখা । সরজমিন সেখানে গিয়ে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বের হওয়ার মূল ফটোক রিক্সা, লেগুনা এবং রাস্তার দুইপাশের ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে । জানতে চাইলে ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নতুন সময় কে বলেন, পিক আওয়ারে যদি কখনো দুর্ঘটনার সংবাদ আসে সে ক্ষেত্রে এখান থেকে বের হওয়াটা খুব কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় আমাদের সিকিউরিটি গার্ড দের সাথে তাদের সাথে বাগবিতর্ক হয়। ধারণ ক্ষমতার থেকেও বেশি পরিমাণ অটোরিকশা, লেগুনা ও ইজিবাইক এখানে রয়েছে। তারপর আবার রাস্তার দুই পাস দখল করে অসংখ্য দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ফুটপাত দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ জোবায়ের হোসেন নতুন সময়কে বলেন ১০০ ফিট মাদানি এভিনিউ রাজউকের নিয়ন্ত্রণে, রাজউক এখনো সিটি কর্পোরেশনের কাছে কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রাজউকের গনসংযোগ কর্মকর্তা এবং গুলশান ট্রাফিক জোনের ডিসির সাথে যোগাযোগ করলে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
