|
কক্সবাজারে পর্যটকদের মাঝে আস্থা বাড়াল অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ
কক্সবাজারে পর্যটকদের হারানো ব্যাগ উদ্ধার কুরিয়ারে পৌঁছে দিল ট্যুরিস্ট পুলিশ
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ, কক্সবাজার
|
![]() কক্সবাজারে পর্যটকদের হারানো ব্যাগ উদ্ধার কুরিয়ারে পৌঁছে দিল ট্যুরিস্ট পুলিশ ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ১২টায়। ঢাকা থেকে আগত প্রকৌশলী ফুয়াদ আল হাসান ব্যক্তিগত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে আসেন। ভ্রমণকালীন সময়ে তিনি একটি অটোরিকশায় যাতায়াতের পর অসাবধানতাবশত নিজের একটি হ্যান্ডব্যাগ অটোরিকশায় রেখে নেমে যান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পারলেও অটোরিকশাটি ইতোমধ্যে স্থান ত্যাগ করে। হারানো হ্যান্ডব্যাগটিতে ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা, একটি স্মার্টফোন, দুটি ক্রেডিট কার্ড, মোটরসাইকেলের চাবি এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ব্যাগটি হারিয়ে পর্যটক প্রকৌশলী ফুয়াদ আল হাসান চরম দুশ্চিন্তা ও অসহায় অবস্থায় পড়েন এবং দ্রুত ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা চান। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের সম্মানিত অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আপেল মাহমুদ। তাঁর সরাসরি দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। আভিযানিক দল কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে শত শত অটোরিকশার গতিবিধি বিশ্লেষণের পর ব্যাগটি বহনকারী নির্দিষ্ট অটোরিকশাটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর অটোরিকশাটির চালক ও মালিকের পরিচয় নির্ণয়ে কাজ শুরু করে পুলিশ। পরবর্তীতে অটোরিকশা মালিক সমিতি ও গ্যারেজ মালিক সমিতির সহযোগিতায় অটোরিকশাটির গতিপথ অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার একটি দুর্গম এলাকা থেকে হারানো ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে দেখা যায়, ব্যাগে থাকা পর্যটকের সকল মালামাল অক্ষত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে উদ্ধারকৃত ব্যাগটি এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পর্যটকের ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়। নিজ হাতে হারানো ব্যাগ ও মূল্যবান মালামাল ফিরে পেয়ে প্রকৌশলী ফুয়াদ আল হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই মানবিক ও পেশাদার উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি সকল পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ট্যুরিস্ট পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো পর্যটক যদি ভ্রমণকালে অসাবধানতাবশত তার মালামাল হারিয়ে ফেলেন, তাহলে ট্যুরিস্ট পুলিশ তা উদ্ধারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে। আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পর্যটকরা যেন নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। এই ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশের দক্ষতা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয়ের সফল প্রয়োগ আবারও প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি জোরদার করবে এবং কক্সবাজারকে একটি নিরাপদ ও আস্থাশীল পর্যটন নগরী হিসেবে আরও এগিয়ে নেবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
বাঘাইছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ
মধুখালীতে নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়
