সেনাবাহিনী আপনজন: নিরাপত্তা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার" রুমার জোন কমান্ডার মোঃ মেহেদী সরকার
অংবাচিং মারমা, রুমা
প্রকাশ: Tuesday, 30 December, 2025, 2:43 PM
সেনাবাহিনী আপনজন: নিরাপত্তা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
আমরা কখনোই অস্থিতিশীল বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক—এমন কিছু চাই না। আমরা সব সময় শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। সেনাবাহিনী দেশের একটি গর্বিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। আমরা সব সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রাখব এবং দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনীর পাশে থাকব।
আপনারা প্রতিদিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের দৃশ্য দেখেন বলেই অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি থেকে “সেনাশাসন” শব্দটি উচ্চারিত হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূল করা—যা সমাজ ও দেশের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ডাক্তার, প্রকৌশলী ও সেনাবাহিনীর দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়তে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
রুমা উপজেলা আমার কাছে শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়—এটি আমার আপন ঘর। এই উপজেলার সব মানুষের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা। সুখে-দুঃখে, যে কোনো প্রয়োজনে আমি আপনাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।
তিনি আরও বলেন কেএনএফ-এর যে সব সদস্য এখনো জঙ্গলে লুকিয়ে অবৈধ অস্ত্র হাতে রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—অস্ত্র জমা দিয়ে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর নতুন জীবন শুরু করার আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে, আমি আপনাদের পাশে শতভাগ সহযোগী হিসেবে থাকব। ভুলের পথ থেকে ফিরে এসে সম্মানজনক জীবনে ফেরার সুযোগ সবারই প্রাপ্য।
আসুন, ভয়ের নয়—আশার পথে এগিয়ে যাই, শান্তি ও স্থিতির সঙ্গে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।আমাদের লক্ষ্য হলো সামাজিকভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা। আমরা আপনাদের পাড়ায় গিয়ে কোনো ধরনের গোলাগুলি বা সহিংসতা করতে চাই না। তাই মনে কোনো ভয় রাখবেন না। কেএনএফকে ভয় পেয়ে কেউ যেন নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে না যান। সেনাবাহিনী আপনাদেরই আপনজন—আপনাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। সবাই নিজ নিজ পাড়ায় ফিরে আসুন, শিক্ষা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যান।
আপনাদের মনের কথা, ভাবনা ও প্রয়োজন আমাদের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে শেয়ার করুন। একসাথে কাজ করলে আমরা একটি নিরাপদ, শিক্ষিত ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারব। সভা শেষে একাদশ ও দাদশ শিক্ষার্থীদের মাঝে বই সেট বিতরণ করা হয়েছে। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের আলোচনা সভা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।