ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২১ জুন ২০২৬ ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রতারণার ফাঁদ: ফরেক্স ট্রেডিং-এর আড়ালে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ দুবাই চক্রের শাকিবের
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 15 December, 2025, 9:26 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 15 December, 2025, 9:32 PM

প্রতারণার ফাঁদ: ফরেক্স ট্রেডিং-এর আড়ালে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ দুবাই চক্রের শাকিবের

প্রতারণার ফাঁদ: ফরেক্স ট্রেডিং-এর আড়ালে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ দুবাই চক্রের শাকিবের

অ্যাপভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং বা তথাকথিত ‘ফরেক্স ট্রেডিং’-এর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন শাকিব উদ্দিন ও তার ভাই। দেশে অবস্থানকালে অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ বিনিয়োগ সংগ্রহের পর তারা এখন দুবাইয়ে বসে আরও সংগঠিত ও কৌশলীভাবে এই প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাকিব উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী মার্কেটিং চক্র দেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই চক্রের এজেন্টরা ‘নিশ্চিত লাভ’, ‘ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ’ ও ‘ডলার আয়’-এর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। বাস্তবে এসব ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের কোনো বৈধতা বা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নেই।

ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন জানান, ট্রেডিং সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও পরিচিত একজনের মাধ্যমে তিনি এই ফাঁদে পা দেন। তিনি বলেন, প্রথমে অল্প টাকা ইনভেস্ট করে কিছু লাভ দেখানো হয়। এরপর বলা হয়, বেশি টাকা দিলে লাভও বেশি হবে। লোভে পড়ে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার পর হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার শিকার। লজ্জায় অনেকেই মুখ খুলতে চায় না।

এই চক্রের কৌশল অত্যন্ত পরিকল্পিত। শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত করে একসময় টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যায় তারা। অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলে ডলার আকারে দুবাইয়ে পাচার করা হচ্ছে।

শাকিব উদ্দিনের নেটওয়ার্কের ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লোকজনকে বিনিয়োগে রাজি করানোর বিনিময়ে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া হয়। এই চক্র শিক্ষিত ও চাকরিজীবীদেরও টার্গেট করছে, যাতে প্রতারণাটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জীবন আহামেদ বলেন, এই ধরনের ভুয়া ফরেক্স ট্রেডিং দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শাকিব উদ্দিনকে ‘সফল উদ্যোক্তা’ বানিয়ে কিছু গণমাধ্যমে পজিটিভ প্রচারণা চালানো হয়েছে। সাংবাদিক নিরঝর আলম বলেন, টাকার বিনিময়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রতারকদের আরও শক্তিশালী করেছে। এটি সাংবাদিকতার জন্য লজ্জাজনক।

সাংবাদিক সুমন আহামেদও জানান, তার কাছেও অর্থের বিনিময়ে শাকিব উদ্দিনকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রস্তাব এসেছিল, তবে যাচাই করে তিনি এসব প্রত্যাখ্যান করেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—শত শত কোটি টাকা লোপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই চক্রের বিরুদ্ধে কেন দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই? সাধারণ মানুষের দাবি, শাকিব উদ্দিনসহ বিদেশে পালিয়ে থাকা মূল হোতাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের ভেতরে থাকা এজেন্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে এই ধরনের অবৈধ ট্রেডিং বন্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status