|
ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করলে জনগন আপনাদের ভোট দেবেনা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
এস এম সাখাওয়াত জামিল দোলন
|
![]() ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করলে জনগন আপনাদের ভোট দেবেনা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় বিএনপি মহাসচিব জামায়াতকে উদ্দেশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। শুধু বিরোধিতা করেই তাদেও নেতা ক্ষান্ত হননি, বরং পাকিস্তান সেনাবাহনীর সাথে হাত মিলিয়ে গণগত্যা করেছেন। তারা আজ তারা ক্ষমতা চায়। পিআর কি আমি নিজেও জানিনা, বুঝিনা। কিন্তু পিআর এর দোহায় দিয়ে জামায়াত ধর্মপ্রিয় মানুষকে বোকা বানিয়ে দেশে সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এই দেশের মানুষ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়, সাম্প্রদায়িক নয়। আর তাই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করার আহŸান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, রাস্তায় রাস্তায় পোস্টার লাগিয়েছেন, নির্বাচনেও অংশ নেবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সহজে আপনাদের ভোট দেবে না। কারণ আপনাদেরকে তারা বিশ্বাস করে না। কারণ গত নির্বাচনের হিসাব করে দেখেন। দেশে জামায়াতে ইসলামীর ভোট মাত্র ৫-৬ শতাংশ। সুতরাং রাতারাতি লাফ দিয়ে ৫১ শতাংশ হয়ে যাবেন এটা মনে করবেন না। মহাসচিব বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ হলেও ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে পদ্মা নদীতে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ভারত চুপি চুপি ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করেছে। তারপর বাংলাদেশ ভাগ হলে শেখ মজিবুর রহমান ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেন। ফলে গঙ্গা নদীর অববাহিকায় ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পদ্মা নদীর পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এজন্য শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যায়না। এতে আমাদের দেশের পদ্মা পাড়ের হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়েছে। আর বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল তলিয়ে জনগন দিশেহারা হয়ে যায়। ভারত যখন ইচ্ছা পানি বন্ধ করে দেবে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করবে, চাল-পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিবে এমন দাদাগিরি আমরা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই ভারত আমাদের সমান মর্যাদা দেবে। সমান অধিকার দেবে। তিনি বলেন, আমাদের নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করে লংমার্চ করেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পদ্মা-ফারাক্কা নিয়ে ভারতের সাথে চুক্তি করেন। এরপর আর কেউ এই সঙ্কট মোকাবিলার চেষ্টা করেনি। কিন্তু একমাত্র খালেদা জিয়া পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছিলেন। ![]() ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করলে জনগন আপনাদের ভোট দেবেনা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর তাই গঙ্গা নদীতে ভারতের বাঁধের বিকল্প হিসেবে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প তৈরি করে সেখানে বাঁধ দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বন্যার সময় পানিকে আটকে রাখলে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের রুক্ষতা অনেকটাই কমে যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের ফসল বাঁচানো সম্ভব হবে। আজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক এমপি হারুন এই আন্দোলন শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অধ্যাপক শাজাহান মিয়া, আমিনুল হক পানির ন্যায্য হিস্যার দাবীতে আন্দোলন করছেন। পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিএনপির এই আন্দোলন চলবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচিত হতে পারলে ১৫ মাসের মধ্যেই এক কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণসমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অন্যান্যেও মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
