|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাটের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে, কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলে তোলপাড়
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ, কক্সবাজার
|
![]() শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাটের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে, কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলে তোলপাড় শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘জুলাই আন্দোলন’ এর পর প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলে সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে তিন স্বাক্ষরকারীর যৌথ স্বাক্ষরে রূপালী ব্যাংক, কক্সবাজার শাখায় নতুন একাউন্ট খোলা হয়। রেজুলেশনে উল্লেখ ছিল তিনজনের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাবে না এবং লেনদেন কেবল বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন ব্যয় ও বেতনভাতার মধ্যেই সীমিত থাকবে। অভিযোগ রয়েছে, নূর মোহাম্মদ অবসরে গেলে সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম "টাকার বিনিময়ে" মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে এক রাতের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে একাউন্ট থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী জানান, তিনি একাউন্টের স্বাক্ষরকারী হওয়ায় বিভিন্ন কৌশলে তাকে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় অনুসারী কয়েকজন শিক্ষককে দিয়ে সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে নকল রেজুলেশন তৈরি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। ওই রেজুলেশনে সভাপতির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ও তার নিজের স্বাক্ষর না থাকলেও সেটি ব্যাংকে জমা দিয়ে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদের দায়িত্বকালীন সময় সাত মাসে ও শহিদুল ইসলামের দায়িত্বকালীন একমাসে দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য তোলা হয় ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬২০ টাকা। তার মধ্যে শহিদুল ইসলাম একমাসের মধ্যে ব্যাংক থেকে তুলে নেন ৮ লক্ষ টাকা। যা নজির বিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এদিকে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, শহিদুল ইসলাম তার অনুসারী কয়েকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের নামে আরও একটি নতুন ব্যাংক একাউন্ট খুলেছেন পূবালী ব্যাংক কক্সবাজার শাখায়, যা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ—অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
