ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
বরিশাল অঞ্চল থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবার প্রিয় খেজুরের গাছ ও খেজুরের খাটি রস
এ এইচ অনিক
প্রকাশ: Saturday, 8 November, 2025, 6:54 PM

বরিশাল অঞ্চল থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবার প্রিয় খেজুরের গাছ ও খেজুরের খাটি রস

বরিশাল অঞ্চল থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবার প্রিয় খেজুরের গাছ ও খেজুরের খাটি রস

বৃহত্তর বরিশাল জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে, সবার প্রিয় খেজুরের গাছ ও খেজুর গাছের খাটি রস। 

সেই আধিকাল থেকেই আমাদের বাংলাদেশের মানুষের শিতকালিন সময়ে বা শিত উপলক্ষে শিত কেন্দ্রীক সবার পছন্দের মিষ্টি পিঠা ও পায়েস তৈরির মুল উপকরন, খেজুরের রসের তৈরি বিভিন্ন রকম মিঠা। ধরুন আপনার বাড়িতে আত্বিয় স্বজনের আগমনে প্রথমেই দরকার হবে তাদের আপ্যায়ন করা। য-কারনে তখনই মিষ্টি  পিঠা তো লাগবেই। 

সম্মান বাচাতে আপনি বিকল্প মিষ্টি হিসেবে আখের গুড় বা চিনি ব্যাবহার করাছাড়া কোনো রাস্থাই পাচ্ছেন না। অন্যদিকে আমাদের বাঙালিদের  পছন্দ ও খাবারের তালিকার প্রথম স্থানেই আছে মিষ্টি সব পিঠা, আর তাও হতে হবে খেজুরের গুরের তৈরি হরেক রকম পিঠা বা রসের তৈরী পায়েস। 

আর আপনার অতি প্রিয় সেই পিঠা তৈরির গুর বানাতে যে-সব উপকরণ মেলানো হয় শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে! গুরের সাথে মেশানো হয় গো খাদ্যো যেমন চিটাগুর বা চিনি ময়দা ছাড়াও কতকিছু! অন্যদিকে কাচা রস খাবেন? সেখানেও রসের কালার বানাতে মেলানো হয় ধানের খড়কুটা ভেজানো লাল রংয়ের পানি! এমন হাজারো সমস্যার কারনে ভোজন পিপাসুদের মন থেকে দিন দিন উঠে যাচ্ছে খেজুরের রস ও গুড় খাওয়ার স্বাধ। 

একটু আতিতে ফিরে যেতে হয়। আমাদের ছোটো বেলায় আমরা যে-সকল মজার মজার পিঠা খেতাম তার মজাই ছিলো আলাদা। তা শুধুই আমাদের সৃতিচারণ হয়েই থাকবে। বলছিলেন বয়োবৃদ্ধ রতন ঘরামী, তিনি আরও বলেন আমাদের মা চাচিরা মিলে রাতের বেলায় আনন্দ করে হাতে তৈরী করিতেন চালের গুড়োর তৈরী শিউই পিঠা,পাকন পিঠা (আনদসা পিঠা) ভাপা পিঠা বা সিদ্ধো পিঠা সহ কত্তো রকমের পিঠা, সকাল হলেই খাটি খেজুরের রসের পায়েশ সহ খেজুরের ঝোল গুর ও রুটি পিঠা সহ বিভিন্ন রকমের পাটালী গুড়, অন্যদিকে খেজুরের গুরের চায়ের সাথে কত্ত কিছু। কালের বিবর্তনে বা নতুন করে না লাগানোর কারনে  আমাদের গ্রয়ম নশ বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের প্রায় এলাকা থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গাছ আমরা পাচ্ছিনা খাটি খেজুরের রস। 

যদিও কিছু কিছু এলাকায় মাত্র কয়েকদিনর জন্য সামান্য কিছু খেজুরের রস পাওয়া গেলেও এলাকার গাছি ভাইয়েরা দেড় থেকে দুইশো টাকা কেজি দরে কাচা রস বিক্রি করেন। আর দামের কারনে সবার নসিবে এসব  খেজুরের রস বা গুর এমন কি পিঠেও কপালে জুটেনা।

সাতলা গ্রামের গাছি মোঃ দেলোয়ার হাওলাদার বলেন আগের মতো খেজুরের গাছ নেই যাও আছে কয়েকটি বাড়ি মিলিয়ে আনেক গুলো গাছ কাটার পরে দুই চার খান রস পাই এতে যে কষ্ট হয় তার দামও হয়না। নিজে গাছ কাটি আমার হাতের রস আমি খাটি বলতে পারি। তবে হাটে বাজারে যে-সব রস বা গুড় বিক্রি হয় তার বিন্দুমাত্র খাটি আছে কিনা বলতে পরিবোনা। 

তবুও আমাদের কারনে বা টাকার বিনিময়ে হলেও একটু খেজুরের রস পাচ্ছেন। আগামীতে টাকায়ও খাটি খেজুরের রস বা গুর মিলবেনা। তাই সরকার বা পরিবেশ রক্ষায় সকলের উদ্যোগে বেশী করে খেজুরের গাছ লাগাতে হবে। না-ওলে আগামীর প্রজন্মের কাছে শুধুই আতিত হয়ে থাকবে খেজুরের রস সহ প্রিয় সব পিঠা মিঠা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status