|
গাজীপুরে এনামূল হক মোল্লা যৌথ অভিযানে গ্রেফতার, বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা : সেনাবাহিনী
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরে এনামূল হক মোল্লা যৌথ অভিযানে গ্রেফতার, বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা : সেনাবাহিনী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ লুৎফর রহমান, পি,এন,এস,সি শুক্রবার (৭নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ বিষয়ে বলেন,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, চারটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি পুলিশি ব্যাটন, একটি হ্যামার নেল গান, একটি ইলেকট্রিক শর্ট মেশিন ও ধারালো অস্ত্র।" তিনি বলেন, "অভিযানের সময় এনামুল হক মোল্লা ও তার ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ব্যবসা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক মোল্লা একসময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালে একাধিক মামলা ও অভিযোগের মুখে তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং সেখানে ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন’ নামে পরিচয় পরিবর্তন করে প্রবাসে প্রভাব বিস্তার করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি আবারও গাজীপুর-৩ আসনে রাজনৈতিক প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। ফেরার পর তিনি হেলিকপ্টারে বরমী গ্রামে প্রবেশ করে এক শোডাউনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেন। পোস্টার, ব্যানার ও মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তার অনুসারীরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তিনি বিদেশ থেকে অর্থ এনে অস্ত্র কিনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানকালে এনামুল অবৈধ অর্থ উপার্জন করে দেশে অস্ত্র ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছিলেন। তার বাড়ি ছিল ছোট দুর্গের মতো—উঁচু দেয়াল, সিসিটিভি ক্যামেরা, গোপন কক্ষ ও ইলেকট্রনিক সিকিউরিটি ব্যবস্থাসহ। উদ্ধারকৃত অস্ত্র রাজনৈতিক সংঘাতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বার্তা ও আহ্বান “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কাজ করছে। গাজীপুরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলতে চাইলে বা অস্ত্রের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না জানান এই কর্মকর্তা। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়েছেন তিনি। কেউ যদি অস্ত্রধারী বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর জানেন, দেরি না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। শান্তিপূর্ণ গাজীপুর গঠনে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য উল্লেখ করেন তার বক্তব্যে।” শ্রীপুর থানার এসআই জুনায়েদ জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা এনামুল হক মোল্লাকে গ্রেফতার করি। পরে তার দেওয়া তথ্যে ছয় সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।” শ্রীপুর থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, “এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।” বরমী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রতন বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন তার অপকর্মে ভুগছিল। এখন মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।” বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “তিনি বহু আগে থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত নন, ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করতেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মো. আতিকুল্লাহ বলেন, “বিদেশ ফেরত কিছু রাজনৈতিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এনামুল হক মোল্লা তার অন্যতম।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
