|
দিল্লি থেকে ঢাকা, কতটা বিষাক্ত দক্ষিণ এশিয়ার বাতাস?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() দিল্লি থেকে ঢাকা, কতটা বিষাক্ত দক্ষিণ এশিয়ার বাতাস? একিউআই আমাদের আশেপাশে থাকা বাতাসের দূষণের মাত্রা পরিমাপ করে। এই সূচক ০ (শুন্য) থেকে ৫০০ পর্যন্ত হয়। বিপজ্জনক দূষণের মাত্রা উচ্চ থাকলে এই সূচক ৫০০-রও বেশি হতে পারে। 'ফাইন ইনহেলেবল পার্টিকুলেট ম্যাটার’ (বা পিএম২.৫) হলো বাতাসে থাকা ২.৫ µm (মাইক্রোমিটার)-এর কম ব্যাসের ক্ষুদ্র কণা যা মানুষের ফুসফুস এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এটা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট (ইপিআইসি) এর চলতি বছরের অগাস্ট মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, কণা দূষণের উচ্চ মাত্রা দিল্লির বাসিন্দাদের আয়ু ৮.২ বছর কমিয়ে দেয় বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ইপিআইসি-র তথ্য বলছে, দূষণ সঙ্ক্রান্ত সমস্যা শুধুমাত্র দিল্লিরই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অংশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল এটা। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত দেশ হলো বাংলাদেশ। ঢাকায় পিএম২.৫- এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আইকিউএয়ারের- এর তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের লাহোরের এই মাত্রা প্রায় ২০ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। দিল্লির বাসিন্দারা প্রতিদিন যে বাতাসে শ্বাস নেন গত ১১ বছর ধরে দিল্লির দৈনিক গড় পিএম ২.৫ স্তরের উপর ভিত্তি করে করা বিবিসি-র বিশ্লেষণ বলছে, সেখানে শীতকালে বাতাসের মান বেশি খারাপের দিকে গেলেও পরিস্থিতি কিন্তু মোটের উপর অনিশ্চিতই থাকে। কারণ দিল্লির বাসিন্দারা প্রায় সারা বছর ধরেই অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নেন। গত দশকে হাতে গোনা কয়েক দিনই দিল্লিতে বাতাসের মান ভালো ছিল (একিউআই ৫০ এর নিচে)। বছরে প্রায় ২০০ দিন বা প্রায় ৬০% দিনে বাসিন্দারা অস্বাস্থ্যকর বা খারাপ মানের বাতাসের সংস্পর্শে এসেছেন। গত দশকে ৭০ দিনেরও বেশি একিউআই ৫০০ অতিক্রম করেছে যা সরকারি সূচকের সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য শহর - দিল্লি, ঢাকা, লাহোর, কলম্বো এবং কাঠমান্ডু - এবং ২০১৪ সালে "মানুষের বসবাসের অযোগ্য" হিসেবে চিহ্নিত বেইজিংয়ের তুলনা করলে তীব্র বৈষম্য লক্ষ্য করা যাবে। বেইজিং এবং কলম্বো দুই শহরেই বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে একিউআই ভালো বা মাঝারি রেকর্ড করা গেছে। দিল্লির দূষণে সবচেয়ে বেশি কিসের অবদান? দূষণের উৎস এবং নির্গমনের ক্ষেত্রে কোনটা কতটা দায়ী তা বোঝার জন্য বেশ কয়েকটা গবেষণা করা হয়েছে। সেই তথ্য বলছে, দূষণের জন্য মূলত পাঁচটা বিষয় দায়ী- পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাস্তার ধুলো এবং নির্মাণ। সাসটেইনেবিলিটি জার্নালে ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই প্রসঙ্গে দিল্লি নিয়ে সবচেয়ে বেশি অধ্যয়ন করা হলেও, সেখানকার দূষণের জন্য দায়ী মূল পাঁচটা কারণের মধ্যে কার অবদান কতটা তা নিয়ে সীমিত ঐক্যমত্য ছিল। দিল্লি-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (সিইইডাব্লিউ)-এর ২০১৯ সালের এক গবেষণায় ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পরিচালিত পাঁচটা গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে, যা দূষণের ক্ষেত্রে এই কারণগুলোর অবদান সম্পর্কে আলোকপাত করতে সাহায্য করেছে। নির্মাণ সাইট গবেষণায় দেখা গিয়েছে পিএম ২.৫-এর সবচেয়ে বড় উৎস পরিবহন। এক্ষেত্রে পরিবহনের অবদান ১৭.৯% থেকে ৩৯.২% পর্যন্ত। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া শিল্প-কারখানা খাতও দূষণের একটা বড় কারণ। দিল্লির বাতাসের মান নিম্ন হওয়ার ক্ষেত্রে এই খাতের অবদান ২.৩% থেকে ২৮% গাড়ির ধোঁয়া কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (সিইইডাব্লিউ)-এর তথ্য বলছে দিল্লির পিএম ২.৫ দূষণের ক্ষেত্রে নির্মাণ খাতেরঅবদান ২.২% থেকে ৮.৪%। খড় পোড়ানো সাসটেইনেবিলিটি জার্নালের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, কৃষি বর্জ্য পোড়ানোর মতো ঘটনা, যা দিল্লির ক্ষেত্রে প্রায়শই নজর কাড়ে, দূষণের বার্ষিক ভিত্তিতে তার অবদান তিন শতাংশের কম। স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব ২০২৪ সালের স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট বলছে অনুসারে, পিএম ২.৫ এবং গৃহস্থালীথেকে উৎপন্ন বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী ৭৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। সাসটেইনেবিলিটি জার্নালের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, কৃষি বর্জ্য পোড়ানোর মতো ঘটনা, যা দিল্লির ক্ষেত্রে প্রায়শই নজর কাড়ে, দূষণের বার্ষিক ভিত্তিতে তার অবদান তিন শতাংশের কম। নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যাখ্যা করেছে পিএম ২.৫ কণা এত ছোট যে সেগুলো ফুসফুসের গভীরে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে, যা অ্যালভিওলার ওয়ালের (বায়ু থলির পুরুস্তর) ক্ষতি ও ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাস করে। একবার পিএম ২.৫ কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করলে, তা রক্তচাপ বাড়াতে পারে বা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে যা হার্টে ও মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহকে বাধা দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, পিএম ২.৫-এর সংস্পর্শে মস্তিষ্কের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হতে পারে এবং ব্রেনের হোয়াইট ম্যাটারের ক্ষতি করতে পারে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
নাঙ্গলকোটে মধ্য বয়সী এক লম্পটের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
