ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ কী?
প্রকাশ: Thursday, 25 June, 2026, 12:40 PM

ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ কী?

ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ কী?

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) শঙ্কা, এতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ খুঁজতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলা এমন একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান— এই দুটি টেকটোনিক প্লেটের মিলন ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সেই প্লেট দুটির সীমানার কাছে সংঘটিত অগভীর ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে হয়েছে।

স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট হলো ভূত্বকের ভেতরের এমন এক ধরনের ফাটল, যেখানে দুটি শিলাখণ্ড বা টেকটোনিক প্লেট পাশাপাশি আনুভূমিকভাবে (ডানে বা বামে) চলাচল করে। অন্য সাধারণ চ্যুতির মতো এতে ভূমি ওপর-নিচে সরে যায় না। এই সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

ইউএসজিএস বলেছে, মানচিত্রে ভূমিকম্পকে সাধারণত একটি বিন্দু হিসেবে দেখানো হলেও, এ ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্পকে আসলে একটি বৃহৎ ফল্ট এলাকার ওপর সৃষ্ট স্খলন হিসেবে বিবেচনা করা বেশি উপযুক্ত।

সংস্থাটির মতে, বুধবারের দুটি ভূমিকম্প একসঙ্গে সংঘটিত হওয়া সম্ভবত একটি জটিল ফাটল-সক্রিয়তার (রাপচার) পারস্পরিক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। তারা আরও জানিয়েছে, পরাঘাত (আফটারশক) অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর মধ্যে বেশ শক্তিশালী কম্পনও সৃষ্টি করতে পারে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর মোরনের পশ্চিমাঞ্চলে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। অন্যদিকে দ্বিতীয় কম্পনটির কেন্দ্র ছিল মোরন শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

তীব্র এই কম্পনে রাজধানী কারাকাসসহ পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

বোকোনো ফল্টে ফাটল

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। তবে বুধবারের ভূমিকম্পগুলো দেশটিতে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাকাসের কাছে সর্বশেষ সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবর, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭।

বুধবারের ঘটনাকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে পরপর দুটি বড় ভূমিকম্পের আঘাত। ভূতত্ত্ববিদরা এটিকে ‘ডাবলেট’ বলে থাকেন, অর্থাৎ প্রায় সমান মাত্রার দুটি বড় ভূমিকম্প অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে সংঘটিত হওয়া।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জুলিয়া ও লারা অঙ্গরাজ্যে ৬ দশমিক ২ ও ৬ দশমিক ৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে একজন নিহত এবং ১১০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার শহর সান ফেলিপের প্রায় ১৪ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ৬ মাইল। প্রথম ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১২ মাইল। সাধারণত অগভীর ভূমিকম্পই সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক হয়, বিশেষ করে উপকেন্দ্র জনবহুল এলাকার কাছাকাছি হলে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভেনেজুয়েলার বোকোনো ফল্ট ব্যবস্থায় সৃষ্ট ফাটলের কারণেই এই ভূমিকম্পগুলো হয়েছে।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পগুলো ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের জটিল সীমানার কাছে অগভীর স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিংয়ের ফল।

সংস্থাটি আরও জানায়, ভূমিকম্পের স্থানে ক্যারিবীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ২০ মিলিমিটার হারে দক্ষিণ আমেরিকার তুলনায় পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে।

আফটারশক ও ভূমিধসের আশঙ্কা

ইউএসজিএস সতর্ক করেছে, আফটারশকের কারণে উত্তর ভেনেজুয়েলায় আবারও তীব্র কম্পন অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।

দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩৯ সেকেন্ড।

ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা পুয়ের্তো রিকো, মার্কিন ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সুনামি সতর্কতা জারি করে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে অবস্থিত আরুবা, কুরাসাও ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জও বিপজ্জনক ঢেউয়ের ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status