|
‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ কী? জেনে নিন করণীয়
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’ কী? জেনে নিন করণীয় চক্ষু চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আগে মনে করা হত এই সমস্যা কেবল চোখকেন্দ্রিক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এতে শুধু চোখ নয়, মাথা ও ঘাড়ে যন্ত্রণা, স্পন্ডিলাইটিস, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন এমনকি ডবল ভিশনের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। ‘আমেরিকান অপ্টোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষণা বলছে, একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক স্বাভাবিকভাবে পড়ে না। ফলে চোখের জল শুকিয়ে যায় এবং শুষ্ক চোখসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ কাছের জিনিস দেখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে দূরের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়, যাকে বলা হয় ‘স্টুডেন্ট মায়োপিয়া’। অনেকক্ষণ ধরে কাজ করার সময় চোখের মণিকে বারবার স্ক্রিনের চারপাশে ঘোরাতে হয়, এতে চোখের পেশিতে চাপ পড়ে এবং ক্লান্তি আসে। যাদের চোখে মাইনাস পাওয়ার বেশি, তাদের সমস্যার মাত্রা আরো বাড়ে। আবার চশমা ছাড়া স্ক্রিনে কাজ করলে ঝুঁকি অনেক বেশি। এ সময় সম্পূর্ণভাবে পলক না পড়ায় চোখ আংশিক খোলা থাকে এবং শুষ্কতার সমস্যা বেড়ে যায়। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত কম্পিউটারে কাজ করলে ছয় মাস অন্তর চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করানো জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা অপরিহার্য। পাশাপাশি কম্পিউটার স্ক্রিন আই লেভেলের নীচে রাখা উচিত। যাতে চোখ ও ঘাড়ে বাড়তি চাপ না পড়ে। শুয়ে বা ঘাড় কাত করে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেও চোখে সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা জ্বালা করলে পানির ঝাপটা দেওয়া উপকারী। তবে এ রকম ঘটনা ঘনঘন হলে এক চোখ চাপা দিয়ে অন্য চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা করতে হবে। ঝাপসা দেখার প্রবণতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা আরো বলছেন, টানা ২০ মিনিট স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার পর অন্তত ২০ ফিট দূরের কোনো কিছুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা দরকার। এতে চোখের উপর চাপ কমে। এ ছাড়া অন্ধকার পরিবেশে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে চোখের উপর বাড়তি ক্ষতি হয়। তাই স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ও কনট্রাস্ট প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চোখের সুরক্ষায় প্রতি ৩-৪ সেকেন্ড অন্তর চোখের পাতা ফেলা কার্যকর। বিশেষ করে একটানা স্ক্রিনে কাজের সময় এই ব্যায়াম চোখকে নানা সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
