ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ৬ মাঘ ১৪৩২
তাড়াশে পুকরে মাছ, পাড়ঘেঁষে সবজি ও ফলের বাগান
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
প্রকাশ: Tuesday, 2 September, 2025, 12:58 PM

তাড়াশে পুকরে মাছ, পাড়ঘেঁষে সবজি ও ফলের বাগান

তাড়াশে পুকরে মাছ, পাড়ঘেঁষে সবজি ও ফলের বাগান

পুকুরে ছাড়া হয়েছে রুই, পাঙাশ, কাতলসহ নানা জাতের মাছ। পাড়ঘেঁষা জমি কেটে করা হয়েছে লম্বা ঢিবি। সেখানে আবাদ করা হয়, লাউ, মরিচসহ মৌসুমি সবজি। একটু ওপরে আম, পেঁপে, কলা, বরইসহ হরেক রকম ফলের গাছ। 

সমন্বিত ফসল আবাদের এ চিত্র দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর সোলাপাড়া গ্রামে। এ গ্রামগুলো ছাড়াও কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কৃষি অফিসের সহায়তায় গড়ে উঠেছে শতাধিক প্রজেক্ট।

 কাজ করছেন ১২৩ কৃষক। ৯ হেক্টেরজুড়ে থাকা ৯৮টি পুকুরে মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। সবজি আবাদ হযেছে ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টরে। এসব প্রজেক্টে কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে শত শত শ্রমিকের পরিবারেও। থেমে নেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষাবাদও। 

মহিষলুটি বাজারের মাছের আড়তের এক মালিক সোহেল রানা জানান,  সমন্বিত মাছের  প্রজেক্ট থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ মণ মাছ আসে আড়তে, যার বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।  তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানে এসব মাছ চাষ করা হয়। সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার মাছের চাহিদা বাড়ছে। 

বছরে ৫ লাখ টাকা ভাড়া চুক্তিতে কৃষি প্রজেক্ট গড়ে তুলেছেন নওগাঁ ইউনিয়নের কালুপাড়া ভায়াট গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন হোসেন। ১১টি পুকুর ঘিরে ৭২টি আম্রপালি গাছ আছে তাঁর। প্রতিটি গাছের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় আবাদ করা হয়েছে হাইব্রিড মরিচ,লাউসহ বিভিন্ন ফসল। প্রজেক্টের কাজে তাঁকে সহায়তা করেন ১৩ শ্রমিক। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত, ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২ লাখ টাকার। আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে মাছ, সবজি ও ফল থেকে বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আয় হয় তাঁর। মাছ, ফল, ফসল বিক্রির পর উদ্বৃত্ত পণ্য প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন এই কৃষক।

শামসুল আলম জানান, কৃষিকাজ তাঁর শুধু পেশা নয়, নেশাও। কৃষি অফিস এ কাজে যথেষ্ট সহায়তা করে। তাদের সহায়তায় চাষের আওতায় বাড়ানোর ইচ্ছে আছে তাঁর। 
শামসুল আলমের প্রজেক্টে কাজ করেন আমির হোসেন। দৈনিক ৮০০ টাকা মজুরি পান। এ আয় দিয়ে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যায়। 

আমির হোসেন বলেন, আগে সংসারে অভাব ছিল। প্রজেক্টে কাজ করে তা কাটিয়ে উঠেছি। দুই মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি। কিছু টাকা জমিয়েছি। আশা আছে সমন্বিত আবাদে যোগ দেব। 

একই ইউনিয়নের চৌপাকিয়া এলাকায় চারটি পুকুর লিজ নিয়ে সমন্বিত কৃষি প্রজেক্ট গড়ে তুলেছেন মোহাম্মদ আলী । পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে, লেবু, কমলা, পেঁপে আবাদ করেছেন।  লালশাকসহ নানা সবজির ফলন এসেছে। এ বছর ৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। ফল ও ফসল বিক্রি করেছেন লাখ টাকার। সমন্বিত ফসল আবাদে সব মিলিয়ে ভালোই উপার্জন হচ্ছে এই কৃষকের। 

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা জানান, মিশ্র ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক। তাদের উদ্যোগে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। কৃষকসহ নতুন উদ্যোক্তাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status