|
মওলানা ভাসানী সেতু: গাইবান্ধা-চিলমারী এক সেতুবন্ধনে, তিস্তার ওপর দিয়ে চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত সড়ক যোগাযোগ
মোঃ মাহবুবুল হাসান,চিলমারী
|
![]() মওলানা ভাসানী সেতু: গাইবান্ধা-চিলমারী এক সেতুবন্ধনে, তিস্তার ওপর দিয়ে চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত সড়ক যোগাযোগ প্রায় ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ৯.৬০ মিটার চওড়া। দুই লেনের এই প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতুটিতে মোট স্প্যান রয়েছে ৩১টি। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (SFD) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (OFID)-এর যৌথ অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত এই সেতু চালুর ফলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয়দের মতে, এই সেতুকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তিস্তার দুই পাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে পর্যটন শিল্পেরও বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সময় সাশ্রয় এই সেতুটি চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে সময় সাশ্রয় হবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এছাড়াও, এটি গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটাবে, যা স্বল্প সময় ও কম খরচে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও ছোট-বড় কলকারখানা স্থাপনে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সেতুটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর ফলে ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ভুরুঙ্গামারী স্থলবন্দর হয়ে কুড়িগ্রামের দূরত্ব ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে। এই সেতু দুই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
