চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০জন পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে বলে জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ।
জানা যায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা স্থানীয় বিআরডিবি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
এ সময় সভাটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে চলছিল। সভা পরিচলনা করছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ছায়েদ সরকার।
বর্ধিতসভায় সকাল থেকে উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের মিছিল নিয়ে আসে। সভার একেবারে শেষ পর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান বক্তব্য দিচ্ছিল। এ সময় বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের সমর্থকরা একটি মিছিল নিয়ে বর্ধিতসভায় ঢুকে সবাইকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। একপর্যয়ে বর্ধিতসভা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূইয়ার গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে বর্তমান সংসদ সদস্যের সমর্থকবৃন্দ।
উভয়পক্ষকে নিবৃত করতে পুলিশ প্রথমে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে উভয়গ্রুপ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুর না থামালে পুলিশ ১৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ, জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, ছাত্রলীগ নেতা রিপন, এ্যাড. মাহবুবুল আলম, শরিফসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ আহতদের ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দাবি পুলিশ কারো ইন্ধনে বর্ধিতসভায় গুলি চালিয়েছে।
বর্তমান সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শফিকুর রহমানের একজন সমর্থক জানান, বর্ধিত সভায় চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমানকে দাওয়াত না দেয়ায় তার সমর্থকরা বাধা প্রদান করলে, সাবেক সংসদ সদস্য ড. শামসুল হক ভূইয়ার কর্মী সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে।
তিনি আরো জানান, আমরা শুনেছি বর্ধিত সভা বন্ধে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়েছে। তার পরেও বর্ধিত সভাটি স্থগিত করা হয় নাই।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী মুঠো ফোনে জানান, বর্ধিতসভা বন্ধে জেলা আওয়ামী লীগ কোন চিঠি প্রদান করেনি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূইয়া জানান, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আওয়ামী লীগের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার।
গুলিবর্ষণের বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা চলছিল। সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্যের লোকজন বাঁধা প্রদান করলে উভয়পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। জনগণের জান ও মাল রক্ষার্থে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়।