|
ভুল চিকিৎসায় মাদ্রাসা ছাত্র বায়েজিদের মৃত্যু, মুচলেকা ভেঙে রোগী দেখে নিল প্রাণ
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() ভুল চিকিৎসায় মাদ্রাসা ছাত্র বায়েজিদের মৃত্যু, মুচলেকা ভেঙে রোগী দেখে নিল প্রাণ বায়েজিদ আর ফিরবে না। সে এখন কবরে তাকে আর চুমু খেতে পারবেন না তার মা, ছুঁয়ে দেখতে পারবেন না তার বাবা। ভুল চিকিৎসা শেষ করে দিল একটা ছোট জীবন, একটা পরিবার। বরগুনা সদর উপজেলার কালিরতবক গ্রামের মামুন মুছুল্লির বড় ছেলে ১৩ বছরের বায়েজিদ আমতলীর চরকগাছিয়া দিনিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। গত ২৩ জুন, দুপুর ১টার দিকে সে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে বাবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত পল্লী চিকিৎসক বিধান রঞ্জন সরকারের কাছে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিধান সরকার বায়েজিদকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেন। ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাত ১টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম শামসুল আরেফিন বলেন, জ্বর হলে রোগীকে পরীক্ষা করে উপসর্গ বুঝে চিকিৎসা দিতে হয়। সরাসরি হাই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া চরম বিপজ্জনক। এটি স্পষ্টতই অপচিকিৎসা, যা শিশুটির মৃত্যু ঘটিয়েছে।” আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ফের চেম্বারে এই ঘটনার চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হলো এই চিকিৎসক দুই দিন আগেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। গত ২১ জুন, বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়ত উল্লাহ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ভুয়া চিকিৎসককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। বিধান রঞ্জন সরকার সেই তিনজনের একজন। তিনি লিখিত মুচলেকা দেন, আমি আর কখনো চেম্বারে বসব না, রোগী দেখব না। কিন্তু সেই মুচলেকা অমান্য করে দুই দিনের মাথায় আবারও চেম্বারে বসেন এবং একজন শিশুর প্রাণ কেড়ে নেন। এমন নির্মম উদাহরণ বরগুনায় এর আগে দেখা যায়নি। প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? প্রশ্ন এলাকাবাসীর এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয়ভাবে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মানুষ প্রশ্ন তুলছে ,আদালতের নির্দেশের বাস্তবায়ন কে নিশ্চিত করবে? মুচলেকা দেওয়ার পরেও চিকিৎসক আবার রোগী দেখলেন, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায় ছিল? ভুয়া চিকিৎসকরা কেন এত সহজে জনগণের জীবন নিয়ে খেলা করতে পারে? এ ঘটনা বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা ও তদারকির দুর্বলতার নগ্ন উদাহরণ। একজন চিকিৎসক যদি প্রকাশ্যে মুচলেকা ভঙ্গ করে রোগী দেখতে পারে, আর তার পরিণতিতে একটি শিশুর মৃত্যু হয় তাহলে কে জবাবদিহি করবে? শিশু বায়েজিদের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। আমি শুধু চাই, এমনটা আর কারও সন্তানের সঙ্গে না ঘটুক। যারা দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” অভিযুক্ত চিকিৎসক বিধান রঞ্জন সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বায়েজিদের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি প্রশাসনিক অবহেলা, দুর্বল নজরদারি ও ভুয়া চিকিৎসকদের দাপটের ট্র্যাজেডি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
