ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৮ মে ২০২৬ ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
জন্মদানের আগেই মৃত্যু: ২৩ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা জাহানারার হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
প্রকাশ: Monday, 30 June, 2025, 8:08 PM

জন্মদানের আগেই মৃত্যু: ২৩ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা জাহানারার হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জন্মদানের আগেই মৃত্যু: ২৩ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা জাহানারার হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সেই মেয়েটি তখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভে জীবন, চোখে স্বপ্ন, মনে ভয়। সংসার নামের খাঁচায় আটকে ছিল সে, যেখানে ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল টাকার দাবি। একটি জীবন জন্ম দেওয়ার আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার নিজের জীবন পাশবিক নির্যাতনে, স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লালসায়। ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পরে, অবশেষে মিলেছে বিচার।

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সোমবার (৩০ জুন) ভয়াবহ সেই ঘটনার বিচার শেষে স্বামী কামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস।

২০০৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে জাহানারা বেগম, যিনি তখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার স্বামী কামাল হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে চাপ দেন। জাহানারা রাজি না হওয়ায় কামাল তলপেটে লাথি মারেন, পিটিয়ে আহত করেন।

পরদিন স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মোসলেম উদ্দিনে বলেন, ‌জামাই কামাল ২০০৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ফোন দিয়ে আমাকে জানায়, জাহানারা খুব অসুস্থ। যে কোনো সময় জাহানারা মারা যেতে পারে। পরদিন তাদের বাড়ি গিয়ে দেখি, মেয়ের মরদেহ বাড়ির উঠানে। আমার মেয়ের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন ছিল।

জাহানারা মারা যাওয়ার পরও বিচারের জন্য বাবাকে লড়তে হয়েছে দীর্ঘ ২৩ বছর। তিনি কামালসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে তদন্তে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন, বাদী ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে আটজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সচেতন হলে (রায় পেতে) ২৩ বছর অতিবাহিত হতো না। বাদী এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে আসামি কামাল এখনো পলাতক।

এই রায় শুধু একটি পরিবারকে নয়, গোটা সমাজকে একটি বার্তা দেয়: যৌতুক একটি হত্যার নাম। একটি সামাজিক অভিশাপ। এবং প্রতিটি নির্যাতনের বিচার একদিন হবেই, দেরিতে হলেও।

২৩ বছর পর হলেও এই রায় প্রমাণ করে, ন্যায় চাপা পড়ে না, অপেক্ষা করে জেগে ওঠে। জাহানারা বেঁচে নেই, কিন্তু তার মৃত্যুর বিচার হয়েছে।

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status